হলিউডের পরিচালক টম গরমিক্যান ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানাকোন্ডা’ রিবুটে একটি শেষ মুহূর্তের ক্যামিও কীভাবে যুক্ত হল তা সম্প্রতি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। গরমিক্যানের এই ব্যাখ্যা চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও তার নিজস্ব সৃজনশীল সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প প্রকাশ করে।
গরমিক্যানের ক্যারিয়ার শুরু হয় যখন সিনেমা হলের স্ক্রিনে এখনও প্রচলিত রকমের কমেডি জনপ্রিয় ছিল। ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি বিনোদন শিল্পে প্রবেশ করেন এবং দ্রুতই নিজের স্বতন্ত্র শৈলী গড়ে তোলেন।
তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালনা কাজ ‘দ্যাট অওয়ার্ড মোমেন্ট’, যা জ্যাক ইফ্রন, মাইলস টেলার এবং মাইকেল বি. জর্ডানকে কেন্দ্র করে একটি ‘ব্রোম্যান্টিক’ কমেডি হিসেবে পরিচিত হয়। ২০১৪ সালে ৮ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের তুলনায় ছয় গুণের বেশি আয় করে এই ছবি গরমিক্যানের নামকে শিল্পের আলোচনায় এনে দেয়।
সফলতার পর গরমিক্যান টেলিভিশন নেটওয়ার্কে কাজ শুরু করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন সিরিজে দায়িত্ব পালন করেন। টিভি ক্ষেত্রে তার কাজের প্রশংসা পাওয়ার পর তিনি আবার চলচ্চিত্রের দিকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
এই সময়ে তিনি এবং তার সৃজনশীল সঙ্গী কেভিন এট্টেন একসাথে কাজ করার সুযোগ পান। দুজনই এমন একটি প্রকল্পের সন্ধান করেন যা তাদের ব্যক্তিগতভাবে আনন্দ দেয়, ফলে তারা স্বতন্ত্র শৈলীর সিনেমা তৈরিতে মনোনিবেশ করেন।
২০২২ সালে গরমিক্যান ‘দ্য আনবেয়ারেবল ওয়েট অফ মাসিভ ট্যালেন্ট’ ছবিতে কাজ করেন, যেখানে নিকোলাস কেজ এবং পেড্রো পাসক্যালের সঙ্গে মেটা-অ্যাকশন কমেডি তৈরি হয়। যদিও এই ছবি ২০২২ সালের অস্থির বক্স অফিসে বড় হিট না হলেও দর্শক ও শিল্পের মধ্যে ভালো সাড়া পায় এবং গরমিক্যানের চলচ্চিত্র নির্মাণে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
এরপর তিনি এবং এট্টেন ২০২২ সালে ‘বেভারলি হিলস কপ: অ্যাক্সেল এফ’ এর স্ক্রিপ্টে সহযোগিতা করেন, যা তাদেরকে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেয়। এই অভিজ্ঞতা তাদেরকে আরও বড় প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত করে।
১৯৯৭ সালের মূল ‘অ্যানাকোন্ডা’ ফিল্মের রিবুটের জন্য গরমিক্যান ও এট্টেনকে ২০২৩ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে তারা এই প্রকল্পে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তবে এক সপ্তাহের চিন্তাভাবনার পর তারা একটি প্রাথমিক পিচ প্রস্তুত করে।
পিচে তারা ‘দ্য বিগ চিল’ এর ধারণাকে ‘অ্যানাকোন্ডা’ এর সঙ্গে মিশ্রিত করার প্রস্তাব দেন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজের ঐতিহ্যকে নতুন রূপে উপস্থাপন করবে। এই প্রস্তাবটি স্টুডিও কর্তৃক গ্রহণ করা হয় এবং রিবুটের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে গরমিক্যান একটি অপ্রত্যাশিত ক্যামিও যুক্ত করার কথা বলেন, যা মূল স্ক্রিপ্টে ছিল না। তিনি জানান, এই ক্যামিওটি একটি পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজের চরিত্রের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি, যা শুটিং শেষের দিকে হঠাৎ সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দ্রুত সংযোজনের জন্য শুটিং টিমকে অতিরিক্ত রাতের কাজ করতে হয়, তবে শেষ ফলাফলটি দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ক্যামিওটি যুক্ত হওয়ার পর ‘অ্যানাকোন্ডা’ রিবুটটি ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় এবং দর্শকরা এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তকে প্রশংসা করে। গরমিক্যানের মতে, শেষ মুহূর্তের এই সৃজনশীল সিদ্ধান্তটি ফিল্মের সামগ্রিক টোনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজের ভক্তদের জন্য একটি স্মরণীয় উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গরমিক্যানের এই অভিজ্ঞতা নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে সৃজনশীল ঝুঁকি নেওয়া কখনও কখনও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে। ‘অ্যানাকোন্ডা’ রিবুটটি দেখতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য এই ক্যামিওটি অবশ্যই মিস করা উচিত নয়।



