জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসাদ) গতকাল নির্বাচনী কমিশনের সচিব অখতার আহমেদকে একটি চিঠি প্রদান করে জানায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য রেফারেন্ডাম আয়োজনের কোনো আইনি ভিত্তি রাখে না। চিঠি নির্বাচনী কমিশন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকায় সরাসরি হস্তান্তর করা হয়, যেখানে জাসাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ সাধারণ সচিব শাওকত রায়হান ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল উপস্থিত থাকে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসিসি সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা সভা পরিচালনা করলেও আওয়ামী লীগ, জাতীয় দল, জাসাদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি সহ কয়েকটি প্রধান দলের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানায়নি। জাসাদ উল্লেখ করে, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এই দলগুলো উল্লেখযোগ্য ভোটভাগ পেয়েছে, ফলে তাদের বাদ দেওয়া প্রক্রিয়াটি সমতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির বিরোধী।
অধিকন্তু, জাসাদ চিঠিতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের দিকে ইঙ্গিত করে, বর্তমান সরকারকে সংবিধানের ধারা ৯৪(১)(খ) ও ১৪২(১)(এ) অনুযায়ী “অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্যাবলী সম্পাদন করা। এই ভিত্তিতে, সরকার যদি সংবিধান পরিবর্তনের জন্য রেফারেন্ডাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো আদেশ জারি করে, তবে তা সংবিধানবিরোধী হবে বলে দলটি দাবি করে।
সংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচনী কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জাসাদ স্পষ্ট করে জানায়, ইসিসি রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া তার দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করবে এবং তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এদিকে, জাসাদ তার সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে অন্তর্ভুক্ত করে, মুক্তিযুদ্ধের সময় গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” গুলো প্রত্যাহার এবং ইতিমধ্যে রায়প্রাপ্ত মামলাগুলোর বাতিলের দাবি জানায়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাসাদ এবং অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলো বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর দ্বারা দখল করা অবস্থায় রয়েছে। এই দখলকৃত অফিসগুলো মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দলটি আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা বজায় রাখবে।
জাসাদের এই পদক্ষেপের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি, নির্বাচনী কমিশনের পক্ষ থেকে সকল প্রধান দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করার অভিযোগও রয়েছে। যদিও সরকার রেফারেন্ডামকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে, জাসাদ দাবি করে, সংবিধানিক বিধান অনুসারে শুধুমাত্র পার্লামেন্টীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা সম্ভব।
অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান দায়িত্বের সীমা ও রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্কের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। জাসাদ উল্লেখ করে, যদি ইসিসি তার সংবিধানিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তা সংবিধানিক শাসনের নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হবে।
এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনী কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকারী সংস্থাগুলোর রেফারেন্ডাম সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাসাদ এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো আইনগত চ্যানেল ব্যবহার করে সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই করার পাশাপাশি, জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জাসাদের চিঠি সরকারকে সংবিধানিক সীমা অতিক্রম না করার এবং ইসিসিকে তার সংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর অফিসের দখলমুক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর অবিলম্বে সমাধান চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে নির্ধারণ করবে।



