২০২৬ আইপিএল নিলাম আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি পেস অলরাউন্ডার মঙ্গেশ যাদবকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ৫ কোটি ২০ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করে। তার ভিত্তি মূল্য ৩০ লাখ টাকার হলেও, চারটি দল একে অপরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করে, শেষ পর্যন্ত আরসিবি সর্বোচ্চ দর দিয়ে তাকে তার দলে যুক্ত করে। নিলামের পর এক সপ্তাহের বেশি সময় কেটে যাওয়া সত্ত্বেও, যাদব এখনও এই চমকপ্রদ পারিশ্রমিকের বাস্তবতা নিয়ে অবাক।
মঙ্গেশ যাদবের মতে, এখন আর তার ট্রাক চালক বাবার কাছ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য চাওয়ার দরকার নেই; এই চুক্তি তার জন্য এক বড় সাফল্য। তিনি উল্লেখ করেন, দল পেয়ে ফোনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এই নতুন দায়িত্বগুলো সামলাতে প্রস্তুত হতে হবে। তার নতুন অবস্থান তাকে দেশের শীর্ষ স্তরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সমান স্তরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
যাদব মূলত বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার, যার সর্বোচ্চ গতি ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুরুর দিকে তিনি মূলত স্টক ডেলিভারি (একই গতি ও লাইন) ব্যবহার করতেন, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি গতি ও ভ্যারিয়েশন যোগ করে তার দক্ষতা বাড়িয়ে তুলেছেন। এই বৈচিত্র্যই তাকে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নজরে এনে দেয়।
আরসিবি দল বর্তমানে ইয়াশ ধুলের বিকল্প হিসেবে মঙ্গেশকে বিবেচনা করছে। ধুল, যিনি একই ধরণের বাঁহাতি পেসার, যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় আইপিএলে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। স্কাউটরা বিশ্বাস করে, মঙ্গেশ সরাসরি মূল একাদশে (প্রধান খেলোয়াড়) স্থান পেতে সক্ষম, যা দলের ব্যালেন্সে নতুন শক্তি যোগাবে।
মঙ্গেশের ক্রিকেট যাত্রা সহজ ছিল না। সাত বছর আগে তিনি টেনিস বল ক্রিকেটে শুরু করেন এবং অর্থের প্রয়োজনের কারণে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের স্থানীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিতেন। ভ্রমণের জন্য তিনি সাধারণ ট্রেনের কামরা ও রাজ্য পরিবহনের বাসে চড়তেন, এবং ম্যাচ থেকে অর্জিত অর্থই তার জীবনের খরচ মেটাত। এই কঠিন সময়গুলো তাকে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, “বাবার কাছ থেকে আর টাকা চাইতে হবে না, এটাই আমার জন্য বড় অর্জন। আমি চাই আমার বাবা-মা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকুক, আর এজন্য আমাকে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে।” তার মুখে গর্বের ছাপ স্পষ্ট, যদিও তিনি এখনও নতুন পারিশ্রমিকের অনুভূতি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।
মঙ্গেশের শৈশবের স্মৃতি এখনও তাজা; সাত বছর বয়সে বোরাগাঁওয়ের বাড়ির সামনে তার মা তাকে বল ছুঁড়ে দিতেন, যা তার ক্রিকেটের প্রথম ধাপ হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকেই তিনি টেনিস বল দিয়ে অনুশীলন শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে রিয়েল বলের দিকে অগ্রসর হন।
আইপিএল নিলামের পর আরসিবি দল তার প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোচিং স্টাফ তাকে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে কাজ করছে, যাতে তিনি দ্রুত দলীয় কৌশলে মানিয়ে নিতে পারেন। দলটি আগামী সিজনের শুরুর আগে তার ফিটনেস ও দক্ষতা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন প্রি-সিজন ম্যাচে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
মঙ্গেশের যোগদানের ফলে আরসিবি দলের ব্যালেন্সে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তার বামহাতি গতি এবং অলরাউন্ডার ক্ষমতা দলকে পিচের বিভিন্ন অবস্থায় নমনীয়তা দেবে। এছাড়া, তার টেনিস বল ক্রিকেটের পটভূমি তাকে ভিন্ন ধরনের শট ও বলের ভ্যারিয়েশন দিতে সক্ষম করবে, যা আইপিএল-এ প্রায়ই গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করে।
আসন্ন আইপিএল সিজনে মঙ্গেশ যাদবের প্রথম ম্যাচের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি তাকে শীঘ্রই মূল একাদশে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তার পারফরম্যান্স কেমন হবে তা সময়ই বলবে, তবে এখন পর্যন্ত তার অর্জন ও পরিশ্রম তাকে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে নিয়ে গেছে।



