রাজা চার্লস ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পশ্চিমমিনস্টার অ্যাবির লেডি চ্যাপেল থেকে রেকর্ড করা ক্রিসমাস বার্তায়, বিভাজন বাড়তে থাকা সমাজে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি যুদ্ধের সময়ের আত্মা স্মরণ করে, জনগণকে একে অপরকে জানার এবং সমবায়ের শক্তি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্তাটি রেকর্ড করা হয় লেডি চ্যাপেলের মধ্যযুগীয় পরিবেশে, যেখানে এই বছর ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ৮০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ভি-ই ডে ও ভি-জে ডে উভয়ের ৮০তম বার্ষিকীকে স্মরণ করে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে কঠিন সময়ে সমাজের সংহতি কখনোই হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
রাজা চার্লসের মূল বার্তা ছিল প্রতিবেশীর সঙ্গে পরিচিতি বাড়ানো এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন মানুষ একে অপরকে জানে, তখন সামাজিক ফাঁক কমে এবং সমন্বয় বাড়ে।
অ্যাবির চ্যাপেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত বার্তায়, অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় তৎক্ষণাৎ সাহায্য করা নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহসের প্রশংসা করা হয়েছে। এই উদাহরণটি জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী আচরণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
বার্তায় ইউক্রেনীয় একটি কোরাসের পারফরম্যান্সও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া গায়কদের গাওয়া ক্যারোল শোনা যায়। এই সঙ্গীত পরিবেশনা, যুদ্ধের প্রভাবের সঙ্গে মানবিক সংহতির বার্তা যুক্ত করেছে।
রাজা চার্লস বিশ্ব দ্রুত ঘুরে চলার সময় শান্তি ও স্থিরতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, টিএস এলিয়টের কবিতার একটি লাইনকে উল্লেখ করেছেন, যা বর্তমানের ডিজিটাল জগতে মানসিক বিশ্রামের গুরুত্বকে নির্দেশ করে। একটি রয়্যাল সহকারী এই উল্লেখকে নতুন প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করে, এবং মানুষকে ডিজিটাল ডিটক্সের কথা ভাবতে উৎসাহিত করেছেন।
এই বছর বার্তাটি দ্বিতীয়বার রাজপ্রাসাদ থেকে দূরে, অ্যাবির চ্যাপেলে প্রদান করা হয়েছে। রাজা জীবনের “যাত্রা” এবং বর্তমান সময়ের জন্য তার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা পূর্বের ঐতিহ্যবাহী রীতি থেকে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি নির্দেশ করে।
বার্তাটি প্রিন্সেস অফ ওয়েলসের ক্যারোল কনসার্টে ব্যবহৃত ক্রিসমাস গাছের সামনে দেওয়া হয়, যা গথিক শৈলীর গম্বুজের ছাদে আলো ছড়িয়ে দেয়। এই পরিবেশে তিনি সম্প্রদায়ের সংহতি এবং বিভাজন দূর করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাজা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাদের মধ্যে সাধারণ মূল্যবোধের উপস্থিতি দেখে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বৈচিত্র্যময় সমাজে ঐক্য ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে এই সাধারণতা শক্তি প্রদান করে।
বার্তায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের ৮০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় অনুষ্ঠিত স্মরণীয় অনুষ্ঠানগুলোর চিত্র দেখানো হয়েছে। যুদ্ধকালে প্রজন্মের সাহস ও ত্যাগের প্রশংসা করে, তিনি এই মূল্যবোধগুলোকে দেশের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শেষে, রাজা চার্লস দেশের গঠনকারী মূল্যবোধের পুনর্ব্যক্তি করে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বার্তা, ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা ও সামাজিক সংহতির বার্তা একসঙ্গে উপস্থাপন করে, দেশের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।



