20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকগ্রিসের কোস্টগার্ড এজিয়ান সাগরে ৫২ অভিবাসীকে উদ্ধার, এক শিশুর সন্ধান চলছে

গ্রিসের কোস্টগার্ড এজিয়ান সাগরে ৫২ অভিবাসীকে উদ্ধার, এক শিশুর সন্ধান চলছে

গ্রিসের কোস্টগার্ড এজিয়ান সাগরের দুইটি আলাদা ঘটনার মাধ্যমে মোট ৫২ জন অভিবাসীকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে। প্রথমে ফারমাকোনিসি দ্বীপের নিকটবর্তী জলে ১৩ জনের একটি দল উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে এক শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। দ্বিতীয় ঘটনায় ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে ফোলানো একটি নৌকা থেকে ৩৯ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং তারা ক্রিটের কালোই লিমেনেস বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

ফারমাকোনিসি দ্বীপের কাছে উদ্ধারকৃত ১৩ জনের মধ্যে এক শিশুর অদৃশ্যতা তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধানকে ত্বরান্বিত করে। কোস্টগার্ডের দুটি অনুসন্ধান জাহাজ এবং একটি হেলিকপ্টারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখনো শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। এই দ্বীপটি তুরস্কের উপকূলের নিকটে অবস্থিত, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিবাসী প্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রিটের দক্ষিণে ফোলানো নৌকা থেকে উদ্ধারকৃত ৩৯ জনের জাতীয়তা তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাদেরকে ক্রিটের কালোই লিমেনেস এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই বন্দরটি গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, যেখানে অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপিত।

এই দুইটি উদ্ধার অভিযান একসাথে ৫২ জনের নিরাপদ ফেরত নিশ্চিত করেছে, তবে একই সময়ে গ্রীসের উপকূলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে চলমান মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তুরস্ক ও লিবিয়া থেকে গ্রীসের দ্বীপগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসী ও শরণার্থীরা প্রায়ই অপ্রতুল নৌকা ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ক্রিটের উপকূলে একটি ভাসমান নৌকা থেকে ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, আর ১৫ জনের নিখোঁজের তথ্য জানানো হয়। এই ঘটনা পূর্বে ঘটিত সমুদ্র দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সমুদ্রের কঠোর পরিস্থিতি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) জানিয়েছে, এই বছর শুরু থেকে ক্রিট দ্বীপে ১৬,৭৭০ এর বেশি শরণার্থী পৌঁছেছে, যা এজিয়ান সাগরের অন্য কোনো দ্বীপের তুলনায় সর্বোচ্চ। এই সংখ্যা গ্রীসের অভিবাসন নীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক শরণার্থী ব্যবস্থাপনা কৌশলের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞ এক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “গ্রীসের কোস্টগার্ডের দ্রুত প্রতিক্রিয়া গ্রীক সরকারের সমুদ্রসীমা রক্ষা ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান শরণার্থী চুক্তি এবং ইউরোপীয় সমুদ্র সীমানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।” এই মন্তব্য গ্রীস ও তুরস্কের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দু’দেশের মধ্যে শরণার্থী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন।

গ্রীসের সরকার ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনে অতিরিক্ত সমুদ্র রক্ষা বাহিনী ও অনুসন্ধান সরঞ্জাম স্থাপন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং শরণার্থী রুটের বিকল্প পথ সরবরাহে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মানবিক চ্যালেঞ্জের সমাধান এখনও দূরবর্তী।

এই ঘটনাগুলি গ্রীসের কোস্টগার্ডের ত্বরিত পদক্ষেপের পাশাপাশি এজিয়ান সাগরে অভিবাসী নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়া এই সমুদ্রপথে মানবিক সংকটের সমাধান কঠিন বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

গ্রীসের কোস্টগার্ডের এই দুইটি উদ্ধার অভিযান, যদিও সফল, তবু সমুদ্রপথের ঝুঁকি ও শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বহুমুখী কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments