তাজিকিস্তানের শামসিদ্দিন শোখিন জেলায় অবস্থিত কাভো গ্রাম সীমান্তে মঙ্গলবার আফগানিস্তান থেকে প্রবেশ করা সশস্ত্র দল ও তাজিক সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে গুলিবর্ষণ ঘটেছে, যার ফলে দুইজন তাজিক গার্ড ও তিনজন অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে।
তাজিক সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা কভোর প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, সশস্ত্র দলটি মঙ্গলবারই কাভো গ্রামে প্রবেশ করে রক্ষী পোস্টে আক্রমণ চালায় এবং পরের দিন গুলিবর্ষণ শেষ হওয়ার পর তাদের অবস্থান সনাক্ত করা যায়।
আক্রমণকারী দলটি রক্ষী পোস্টে প্রবেশের সময় দুইজন সীমান্ত গার্ডকে গুলি করে নিহত করে, আর গুলিবর্ষণের সময় তিনজন অনুপ্রবেশকারীও প্রাণ হারায়।
সংগৃহীত অস্ত্র ও গুলিবর্ষণ সামগ্রীতে তিনটি এম-১৬ রাইফেল, একটি ক্যালাশনিকভ আক্রমণাত্মক রাইফেল, তিনটি সাইলেন্সারযুক্ত বিদেশি পিস্তল, দশটি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি নাইট ভিশন স্কোপ, গ্রেনেড ও বিস্ফোরকসহ অন্যান্য গুলি-গোলাবারু অন্তর্ভুক্ত।
সীমান্ত সংস্থা জানায়, অনুপ্রবেশকারীরা তাজিক রক্ষী বাহিনীর আদেশ মানতে অস্বীকার করে এবং অস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ করে, যা একটি পরিকল্পিত সশস্ত্র আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত।
ঘটনায় কাভো অঞ্চলে কাজ করা একটি খনি কোম্পানির চীনা কর্মচারীরাও নিহত হয়েছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তাজিকিস্তানের বিবৃতি অনুযায়ী, এই ঘটনা তাজিক সীমান্তে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ঘটিত তৃতীয় অনুরূপ আক্রমণ, এবং এতে তাজিক সরকার আফগান তালিবান সরকারের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনরাবৃত্তি অক্ষমতা উল্লেখ করেছে। সংস্থা আফগান নেতৃত্বের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তাজিকিস্তান সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, দেশের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে তারা সন্ত্রাসী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।
অফগানিস্তান থেকে এখনো এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সীমান্তে মাদক পাচার ও অবৈধ বাণিজ্য দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তাজিকিস্তানের সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণগুলি অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সরাসরি ফলাফল। তারা তাজিক ও আফগান সরকারের মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
এই ঘটনার পর, তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের কূটনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব বাড়বে বলে আশা করা যায়, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এই সীমান্তীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে সমর্থন প্রদান করা প্রয়োজন।



