বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর ১২তম সংস্করণ শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে, তবে শিরোনাম স্পনসর এখনও চূড়ান্ত হয়নি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের এক দিন আগে পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি, ফলে স্পনসরশিপের অনিশ্চয়তা দল ও ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।
বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজের পক্ষ থেকে স্পনসর না পাওয়ার কারণে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়, যার পরিসরে বোর্ডকে ফ্র্যাঞ্চাইজের পরিচালনা ও আর্থিক দিক থেকে সহায়তা করতে বলা হয়।
শিরোনাম স্পনসর সাধারণত টুর্নামেন্টের আগে বহুদিন আগে নিশ্চিত করা হয়, কিন্তু এইবার কোনো প্রেস রিলিজে স্পনসর নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিপিএলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান জানান, এখনো স্পনসর সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং সম্ভবত আগামীকাল পর্যন্ত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বিসিবি’র একজন পরিচালক উল্লেখ করেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা মাট্রা কোম্পানি স্পনসর সংগ্রহের পর শিরোনাম স্পনসরশিপের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করবে। গত মৌসুমে ডাচ-বাংলা ব্যাংক টুর্নামেন্টের শিরোনাম স্পনসর হিসেবে কাজ করেছিল, তবে এই বছর তাদের নাম আর তালিকায় নেই।
একই সময়ে, টুর্নামেন্টের ১২তম সংস্করণের জন্য তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজ তাদের ক্যাপ্টেন ঘোষণা করেছে। সিলেট টাইটান্সের ক্যাপ্টেন হিসেবে মেহেদি হাসান মিরাজের নাম প্রকাশিত হয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নোয়াখালি এক্সপ্রেসের দায়িত্বে শিকত আলি নিয়োগ পেয়েছেন, আর রঙপুরের দলে নুরুল হাসান সোহানকে ক্যাপ্টেন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের ক্যাপ্টেন হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তোর নাম পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের দলে মোহাম্মদ মিথুন নেতৃত্ব দেবেন।
সিলেট টাইটান্স ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। দলটি গাইডলাইন অনুসারে ১৫ দিনের দৈনিক ভাতা এবং মোট পরিশোধের ২৫ শতাংশ প্রদান করেছে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজের আর্থিক স্বচ্ছতা নির্দেশ করে।
টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চলাকালীন, তরেক রহমান তরুণ প্রজন্মকে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যেকোনো মূল্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে।
বিপিএলের শুরুর তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায়, স্পনসরশিপের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দলগুলো তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কৌশলগত পরিকল্পনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যাতে উদ্বোধনী ম্যাচে উঁচু মানের টিকিট-২০ ক্রিকেট উপস্থাপন করা যায়।
বিসিবি ও মাট্রা একসাথে স্পনসর সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য কাজ করছে, যাতে টুর্নামেন্টের আর্থিক কাঠামো মজবুত হয় এবং সকল ফ্র্যাঞ্চাইজের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
বিপিএলের পূর্ববর্তী মৌসুমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সমর্থন ছিল, যা টুর্নামেন্টের সফলতা ও মিডিয়া কভারেজে বড় ভূমিকা রেখেছিল। নতুন স্পনসর চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত, টুর্নামেন্টের বিজ্ঞাপন ও প্রচার কার্যক্রম সীমিত থাকতে পারে।
তবে, ক্যাপ্টেনদের ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মেহেদি হাসান মিরাজ, শিকত আলি, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্তো এবং মোহাম্মদ মিথুনের নেতৃত্বে দলগুলো শক্তিশালী শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিপিএল ১২তম সংস্করণে শিরোনাম স্পনসর না থাকলেও, টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ—উচ্চ গতির টিকিট-২০ ক্রিকেট—অবিকল থাকবে। ভক্তদের জন্য ম্যাচের সময়সূচি ও টিকিটের তথ্য দ্রুত প্রকাশের আশা করা হচ্ছে, যাতে সবাই এই উত্তেজনাপূর্ণ ইভেন্টে অংশ নিতে পারে।



