20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরুমিন ফারহানা দাদা-দাদির কবর জিয়ারতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী অভিযান শুরু

রুমিন ফারহানা দাদা-দাদির কবর জিয়ারতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী অভিযান শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল‑আশুগঞ্জ‑বিজয়নগর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বৃহস্পতিবার বিকালে বিজয়নগর জেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে দাদা‑দাদির কবর জিয়ারতে নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এই পদক্ষেপকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে উপস্থাপন করেন।

রুমিন ফারহানা, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক, দলীয় মনোনয়নের অভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম নেন। যদিও তার দাদা‑দাদি ইসলামপুর গ্রামে বসবাস করতেন, তিনি নিজে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই পারিবারিক সংযোগই তাকে গ্রাম্য ভোটারদের কাছে আত্মীয়তার অনুভূতি জাগাতে সহায়তা করছে।

গত বুধবার রুমিনের পক্ষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন। একই সময়ে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করা হয়। হাবিবের দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ এবং তিনি অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার পক্ষে গত সোমবারই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সংগ্রহ করা হয়। তিনি এই প্রক্রিয়াকে তার ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

“আমি আজকে গ্রামের বাড়িতে দাদা‑দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলাম। আমি ১৭ বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। ১৭ বছর দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছি। আমি এলাকার এবং দেশের মানুষের দোয়া চাই। আমি নির্বাচন চালিয়ে যাব,” রুমিন ফারহানা ক্যাম্পেইন উদ্বোধনে বলেন।

এছাড়া তিনি ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদন করেন: “আমার এলাকার মানুষের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে, ১৭ বছর কারা তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলেছে। তারা ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে, আমার প্রতি অন্যায় হয়েছে। তাদের একটাই দাবি ছিল, জোট দিয়েন না। কিন্তু সেই আকুতি গ্রাহ্য করা হয় নাই। আমাকে ভোটের মাধ্যমে মানুষ সেই অসম্মানের জবাব দেবে।” তিনি স্বীকার করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক হিসেবে হাঁসের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিনের বাবা, ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। রুমিন এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে তার বর্তমান প্রচারণার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের জোটের প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জমিয়তে জোট থেকে বিএনপি ত্যাগের পর রুমিন স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, যা আসনের ভোট ভাগের পুনর্গঠন ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুমিনের গ্রাম্য ভিত্তি ও পারিবারিক সংযোগ তাকে গ্রামীণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, জোটের ভোট ভাগের হ্রাস স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন জোটের প্রতিশ্রুতি না মানার অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে রুমিনের দলীয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তিনি ১ জানুয়ারি ২০২৬ে নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক মিশন সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments