ইস্তাম্বুলের প্রসিকিউটর জেনারেল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তুরস্কে ক্রিসমাস ও নববর্ষের ছুটির সময় সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা করা ইস্লামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর ১১৫ সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর অফিসের বিবরণে বলা হয়েছে, মোট ১৩৭ জনের ওপর গ্রেফতার আদেশ জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি গৃহীত হয়েছে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, যা আইএসের ছুটির সময় বড় আকারের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
তুরস্কের সিরিয়ার সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৫৯ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে জিহাদি গোষ্ঠীগুলি এখনও সক্রিয়। এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তুরস্ক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সীমান্তে তীব্র নজরদারি বজায় রেখেছে।
ইউনাইটেড স্টেটস সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার পালমিরা শহরে ১৩ ডিসেম্বর একক আইএস গনস্লিংয়ের দায়িত্বে থাকা হামলার জন্য দায়ী করেছে। ঐ ঘটনার ফলে দুইজন আমেরিকান সৈনিক এবং একজন আমেরিকান বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই তথ্য তুর্কি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা একই সপ্তাহে আফগানিস্তান- পাকিস্তান সীমান্তে একটি অপারেশন চালায় এবং একটি তুর্কি নাগরিককে গ্রেফতার করে, যাকে আইএস গোষ্ঠীর উচ্চপদস্থ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। Mehmet Goren নামের এই ব্যক্তি, যাকে পরে তুরস্কে স্থানান্তর করা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইউরোপে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনা ও সমন্বয় করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনদের এখন তুর্কি আদালতে হাজির করা হবে এবং তারা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারাধীন হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, আইএসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের বিধান রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী জিজ্ঞাসা করা হবে, যাতে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় দেওয়া যায়।
তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছুটির মৌসুমে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, তুরস্কের এই বৃহৎ গ্রেফতার অভিযান দেশের অভ্যন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমন করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আদালতের রায় এবং অতিরিক্ত তদন্তের ফলাফল দেশের নিরাপত্তা নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



