বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান আজ সকালে ঢাকার আগারগাঁও রিটার্নিং অফিসার অফিস থেকে ঢাকা‑১৫ নির্বাচনী আসনের জন্য নামিনেশন ফর্ম গ্রহণ করেছেন। এই পদক্ষেপটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ফর্ম সংগ্রহের কাজটি জামাতের সহকারী সচিব জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নেতৃত্বে একটি দল সম্পন্ন করেছে।
দলটি রিটার্নিং অফিসারকে সরাসরি ফর্ম হস্তান্তর করে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা‑১৩ ও ঢাকা‑১৫ এলাকার রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইউনুস আলী। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন যে শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে আজ ফর্মটি নেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা‑১৫ আসনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও একই সময়ে তাদের প্রার্থীর নামিনেশন ফর্ম সংগ্রহ করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) থেকে আহমদ সাজেদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (এনসিপি) থেকে আলমগীর ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে এস.এম. ফজলুল হক, গোনো ফোরাম থেকে একেএম শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) থেকে মোঃ শফিকুল ইসলাম খান প্রত্যেকেই রিটার্নিং অফিসার থেকে ফর্ম সংগ্রহ করেছেন।
রুবেল ১৭ ডিসেম্বর সিপিবি-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নামিনেশন ফর্ম গ্রহণ করেন। তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা বহু রক্তক্ষয় শেষে আমাদের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। এখন আবার এই অধিকার হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।” তার এই মন্তব্য নির্বাচনের গুরুত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
নামিনেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে সকল প্রার্থীকে তাদের ফর্ম রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে জমা দিতে হবে, যাতে নির্বাচনী কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে জামাতের শ্রীমতি তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি‑শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।” এই বক্তব্যটি পার্টির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
ঢাকা‑১৫ আসনে একাধিক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্রতর হতে পারে। সকল প্রার্থীর নামিনেশন ফর্ম অনুমোদিত হলে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
নির্বাচনের পূর্বে রেজিস্ট্রেশন, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়সহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।



