27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউক্রেন ডনবাস ও জাপোরিজহিয়া অঞ্চলে ডেমিলিটারাইজড জোনের প্রস্তাব দিল

ইউক্রেন ডনবাস ও জাপোরিজহিয়া অঞ্চলে ডেমিলিটারাইজড জোনের প্রস্তাব দিল

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন যে, ডনবাসের কিছু অংশ যা বর্তমানে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে, রাশিয়া যদি তার সৈন্যদের ওই এলাকায় না পাঠায়, তবে তা ডেমিলিটারাইজড জোন (DMZ) হিসেবে রূপান্তর করা হবে। এই প্রস্তাবটি ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষের ২০‑পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনার অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে। জেলেনস্কি একই সঙ্গে জাপোরিজহিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের আশেপাশের অঞ্চলকেও DMZ হিসেবে নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যেখানে বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ডনবাসের ডিএমজেডের ধারণা হল, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী লুহান্স্কের অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ এলাকা থেকে প্রত্যাহার করবে, শর্ত থাকে রাশিয়া ওই অঞ্চল দখল না করা। রাশিয়া বর্তমানে লুহান্স্কের প্রায় সব অংশ এবং ডনেট্সকের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর ইউক্রেনের সামরিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্তাবটি তার সর্ববৃহৎ ভূখণ্ডগত সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাপোরিজহিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে রাশিয়ার দখলকৃত অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের চারপাশের এলাকা ডিএমজেডে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর নিরাপত্তা ও পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের প্রেসব্রিফিং-এ উন্মোচিত হয়, যেখানে জেলেনস্কি হাইলাইটেড ও অ্যানোটেটেড নথি থেকে পাঠ করে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। এই নথি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সপ্তাহান্তে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই শান্তি পরিকল্পনা, রাশিয়ার ডোনেট্সক ও লুহান্স্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি মোকাবেলায় ইউক্রেনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া এখনও ডোনেট্সক ও লুহান্স্কের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে, যা তার ঐতিহাসিক শিল্প বেল্টের অংশ হিসেবে বিবেচিত। রাশিয়ার সেনাবাহিনী বর্তমানে লুহান্স্কের প্রায় সব অঞ্চল এবং ডনেট্সকের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে রয়েছে। জেলেনস্কির প্রস্তাবের মূল শর্ত হল, রাশিয়া যদি এই অঞ্চলগুলোতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেয়, তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে ডিএমজেড গঠন করা হবে।

ডিএমজেডের কার্যকারিতা ও পরিচালনা পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয়। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে, কে এই জোনগুলো তত্ত্বাবধান করবে, কীভাবে নিয়ম লঙ্ঘন রোধ করা হবে এবং পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কীভাবে ভাগ করা হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো গঠিত হয়নি।

এই প্রস্তাবের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশাল। রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউক্রেনের নেতৃত্বকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হতে হচ্ছে। ডিএমজেডের মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে শান্তি চুক্তির ভিত্তি গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে বাস্তবে এই ধরনের জোনের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

পরবর্তী ধাপে, উভয় দেশ ডিএমজেডের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন ঘটবে, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments