ইয়েমেনের বৃহত্তম প্রদেশ হাদ্রামাউত এবং তেলসমৃদ্ধ আল-মাহরা, দুটোই দক্ষিণান্তরাল কাউন্সিল (স্টিসি) নামে পরিচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দখল করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে গৃহীত হঠাৎ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্টিসি এই দুই অঞ্চলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। একই সময়ে, সৌদি আরবের রিয়াদ সরকার এই দখলকে স্বীকৃতি না দিয়ে স্টিসিকে জনসমক্ষে অঞ্চলগুলো ত্যাগের আহ্বান জানায়। স্টিসি, যা ইয়েমেনকে ১৯৯০ সালের পূর্বের দুই ভাগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায়, তার দাবিগুলোকে রিয়াদের নীতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
স্টিসি, ইয়েমেনের দক্ষিণে গঠিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, ডিসেম্বরের শুরুর দিকে হাদ্রামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে দ্রুত অগ্রসর হয়। এই দুই প্রদেশ দেশের সর্ববৃহৎ এলাকা ও তেলসম্পদে সমৃদ্ধ, ফলে তাদের দখল ইয়েমেনের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনে। স্টিসি কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপের পেছনে তাদের ঐতিহাসিক দাবি রয়েছে যে, ১৯৯০ সালের আগে ইয়েমেন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল এবং সেই সময়ের সীমা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা উচিত।
সৌদি আরবের রিয়াদ সরকার স্টিসির এই দখলকে অবৈধ বলে গণ্য করে এবং জনসাধারণের মাধ্যমে স্টিসিকে অঞ্চলগুলো ত্যাগের আহ্বান জানায়। রিয়াদের এই আহ্বানটি কেবল একক নীতি নয়, বরং ইয়েমেনের রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরতে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করা হয়েছে যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, যদি স্টিসি এমন কোনো কাজ করে যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়, তবে তা ইয়েমেনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। রিয়াদ সরকার সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার এবং হুমকিস্বরূপ কোনো একক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। এই নীতি স্টিসি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার উভয়েরই হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ঐতিহাসিক ভিত্তিকে বিবেচনা করে গৃহীত হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার পূর্বে হাদ্রামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্টিসির হঠাৎ দখল এই অঞ্চলগুলোর শাসন কাঠামোকে ব্যাহত করে, ফলে দেশের অভ্যন্তরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বীকৃত সরকার এবং স্টিসি উভয়ই হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে, তবে এখন তাদের মধ্যে সরাসরি বিরোধের সম্ভাবনা বাড়ছে। এই বিরোধের ফলে হুথি গোষ্ঠীকে এই দুই প্রদেশ পুনরায় দখল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ইয়েমেনের তেলসম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
বর্তমানে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায়া এবং দেশের বিশাল অংশ হুথি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রিয়াদ সরকার ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীকে পুরো দেশ দখল করা থেকে রোধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্টিসির প্রত্যাহার না হলে হুথি গোষ্ঠীর জন্য নতুন সীমানা উন্মুক্ত হতে পারে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই রিয়াদের আহ্বানকে কেবল স্টিসির জন্য নয়, পুরো ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, স্টিসি যদি রিয়াদের আহ্বান মেনে চলে, তবে ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় চালু হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি স্টিসি তার দাবিতে অটল থাকে, তবে দেশের বিভাজন আরও তীব্র হবে এবং হুথি গোষ্ঠীর জন্য নতুন জয়লাভের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রিয়াদের এই প্রকাশ্য আহ্বান তাই ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



