বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় রওনা হওয়ার পথে কৃষক দলের নেতা খাইরুজ্জামান আলম মুন্সি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাত প্রায় একটার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভা গোলচত্বর এলাকায়। মুন্সি, যিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রাম থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী কৃষক দলের আহ্বায়ক, রওনা হওয়ার পথে অচেনা অস্বস্তি অনুভব করেন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক তানজিরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তারােক রহমানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা ও কর্মীদের গাড়ি ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে একত্রিত হওয়ার সময়ই এই ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান স্বদেশে ফিরে আসার এই বিশেষ মুহূর্তে লোহাগড়া উপজেলার আহ্বায়ক খাইরুজ্জামান আলম মুন্সি গাড়িবহরে অস্বস্তি বোধ করেন। তিনি বলেন, মুন্সি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সেবা নেওয়া হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, রাত প্রায় একটার দিকে মুন্সির অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তানজিরুল ইসলাম, যিনি ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তির নাম ও বয়স নিশ্চিত করা হয়েছে: খাইরুজ্জামান আলম মুন্সি, ৪৫ বছর।
খাইরুজ্জামান আলম মুন্সি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রাম থেকে কৃষক দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় কৃষক সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন এবং তার রাজনৈতিক প্রোফাইলের মধ্যে কৃষক অধিকার রক্ষার কাজ উল্লেখযোগ্য। তার অকাল মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর, তারেক রহমানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়নি বলে জানা যায়। তবে স্থানীয় কৃষক দলের নেতৃত্বের শূন্যতা এবং গাঁভা অঞ্চলে রাজনৈতিক সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য সেবা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তবে খাইরুজ্জামান আলম মুন্সির অকাল মৃত্যু এই অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এখন এই শূন্যতা পূরণের জন্য নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, খাইরুজ্জামান আলম মুন্সির মৃত্যু একটি ব্যক্তিগত দুঃখের বিষয় হলেও, তার রাজনৈতিক প্রোফাইল ও স্থানীয় কৃষক দলের সঙ্গে তার সংযোগের কারণে এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশিত হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সেবা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



