ঢাকার তেজগাঁওয়ের ঐতিহাসিক জপমালা রাণী গির্জা বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য দরজা খুলে রেখেছে। গির্জার প্রাঙ্গণ এই সময়ে উন্মুক্ত থাকায় পরিবার ও বন্ধুজনের সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গেটটি বিকেল তিনটায় খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষমান মানুষজন গির্জার ভিতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। প্রবেশপথে কোনো নিরাপত্তা তল্লাশি বা চেকিং না থাকায় দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গির্জার মূল হল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘুরে দেখতে পারে। গির্জার প্রাচীন স্থাপত্য ও শান্ত পরিবেশের মাঝে সময় কাটাতে আগ্রহী মানুষজনের সংখ্যা বেশ স্বাভাবিক রয়ে যায়।
গির্জার সংলগ্ন সমাধিস্থলে অনেক দর্শনার্থী থেমে গিয়ে মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবরের সামনে প্রার্থনা করেন। কবরস্থলে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আত্মার শান্তি কামনা করা হয়, যা ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামাজিক বন্ধনের প্রতিফলন ঘটায়।
একজন এনজিও কর্মী সেলিম পরিবারসহ গির্জা পরিদর্শন করেন এবং গত বছরের তুলনায় এইবারের পরিবেশে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, গত বছর সকাল একটায় গির্জা ভিড়ের মুখে ছিল, কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে কম মানুষজন উপস্থিত। তবু তিনি পরিবারকে নিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থানে সময় কাটাতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সেলিমের মন্তব্যে দেখা যায়, পূর্বের বড়দিনের উচ্ছ্বাসের তুলনায় এইবারের পরিবেশ কিছুটা শান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর সকাল ১১টা-১২টার দিকে গির্জায় বিশাল ভিড় জমা ছিল, যেখানে এবার তেমন জনসাধারণের উপস্থিতি কম। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, সন্ধ্যায় গির্জার ভেতরে আরও দর্শনার্থীর আগমন হবে।
প্রথমবার গির্জা পরিদর্শনকারী অলক নামের আরেক দর্শনার্থীও পরিবারের সঙ্গে গির্জা ঘুরে আনন্দের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, এইবারের ভিজিট তার জন্য নতুন এবং গির্জার শান্ত পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতামতে গির্জার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সমন্বয় বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
গির্জা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর বারোটায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে উপস্থিতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ধর্মীয় উৎসবের স্বাভাবিক প্রবাহকে নির্দেশ করে। অনুষ্ঠান শেষে গির্জার অভ্যন্তরে ধর্মীয় সঙ্গীত ও গীতের সুরে পরিবেশ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও গির্জার তত্ত্বাবধায়ক ক্রিস্টোফার আশা প্রকাশ করেন, বিকেল পাঁচটার পর আরও মানুষ গির্জা পরিদর্শন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের সন্ধ্যায় গির্জার ভেতরে ভিড়ের প্রবাহ বাড়ে এবং বড়দিনের শেষ মুহূর্তে আরও বেশি পরিবার গির্জার দরজা পার করবে।
বড়দিনের এই বিশেষ দিনে গির্জা উন্মুক্ত হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। পরিবারগুলো গির্জার ঐতিহাসিক গঠন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাধিস্থলের শোকস্মরণে একসঙ্গে সময় কাটিয়ে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারছে।
গির্জা আজকের জন্য বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাবে এবং পরবর্তী দিনগুলোতেও একই সময়সূচিতে উন্মুক্ত থাকবে। যারা ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ বড়দিনের পরিবেশ উপভোগ করতে চান, তারা এই সময়ে গির্জা পরিদর্শন করে নিজেরা অনুভব করতে পারেন এই বিশেষ মুহূর্তের সৌন্দর্য।



