বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর ২৬ ডিসেম্বর সিলেটের মাটিতে উদ্বোধন হতে চলেছে। উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, আর একই দিনে চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রথম ম্যাচ হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর ঠিক এক দিন আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরিচালনা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রকাশ পায়।
বেসিক্রিকেডের অফিসিয়াল জানাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক আবদুল কাইয়ুম একটি চিঠির মাধ্যমে দল পরিচালনা থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। চিঠির বিষয়বস্তু বেসিক্রিকেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান নিশ্চিত করেছেন। দলটির মালিকানা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ট্রায়াঙ্গুল সার্ভিসেস, যা চট্টগ্রাম ভিত্তিক, দল পরিচালনায় অক্ষমতা জানিয়ে বেসিক্রিকেডকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে।
বেসিক্রিকেড দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুতই কোচিং ও ম্যানেজমেন্ট স্টাফের তালিকা প্রকাশ করে। প্রধান কোচের দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল, যিনি দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বিভিন্ন স্তরে কোচিং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে আসছেন হাবিবুল বাশার সুমন, যিনি ক্রিকেটের কৌশলগত দিক নিয়ে কাজ করবেন। দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের সন্তান ও সাবেক ব্যাটার নাফিস ইকবাল, যিনি মাঠে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বয় কাজ করবেন।
ব্যাটিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে তুষার ইমরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যিনি ইতিমধ্যে দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পূর্বে চট্টগ্রাম রয়্যালসের টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক বাশার, যাকে এখন এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রধান কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জাস্টিন মাইলসকে নামিয়ে রাখা হয়েছিল, তবে নতুন গঠন অনুসারে তিনি আর এই দায়িত্বে নেই।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস, যারা এই সিজনে প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশগ্রহণ করবে। উভয় দলই উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে, ফলে ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা নিশ্চিত। বেসিক্রিকেডের মতে, নতুন কোচিং স্টাফের গঠন দলকে দ্রুতই সঠিক দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।
বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পেছনে মূল লক্ষ্য ছিল দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান এবং সিজনের শুরুর আগে সব প্রয়োজনীয় কাঠামো নিশ্চিত করা। ট্রায়াঙ্গুল সার্ভিসেসের প্রকাশ্য বিবৃতি অনুযায়ী, তারা ভবিষ্যতে আবার দল পরিচালনার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে, তবে বর্তমানে বেসিক্রিকেডের তত্ত্বাবধানে দলটি চলবে।
সিলেটের মাটিতে উদ্বোধনী ম্যাচের পাশাপাশি চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রথম ম্যাচও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যা ভক্তদের জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সমন্বয় ঘটাবে। বিপিএলের পরবর্তী রাউন্ডে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে বেসিক্রিকেডের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
বিপিএল ২০২৫-২৬ সিজনের উদ্বোধনী দিনটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একাধিক নাটকীয় মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের নতুন ব্যবস্থাপনা দল, কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজারসহ সম্পূর্ণ নতুন গঠন দিয়ে তারা প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে মুখোমুখি হবে। এই পরিবর্তনগুলো দলকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা সময়ই প্রকাশ করবে, তবে এখন পর্যন্ত সবকিছুই স্পষ্ট: দলটি নতুন নেতৃত্বে, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বিপিএলের মঞ্চে প্রস্তুত।



