শরীয়তপুর জেলা কারাগারে বর্তমানে ৩৫৯ জন আসামি ও হাজতি আটক রয়েছে, যদিও কারাগারের নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা মাত্র ১০০ জন। একাধিক তাপমাত্রা হ্রাসের সময় শীতের তীব্রতায় খাবার, পানীয় জল এবং চিকিৎসা সেবার অভাব স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে, ফলে অনেক বন্দি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
কারাগারের চারটি একতলা ভবন ১৯৮৫ সালে নির্মিত এবং বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি ভবনে পাঁচটি কক্ষ ও একটি সেল রয়েছে, যেখানে একাধিক বন্দি একসঙ্গে বসবাস করছেন। আইন অনুযায়ী প্রতিটি বন্দির জন্য ৩৬ বর্গফুট স্থান নির্ধারিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে একজনের জায়গায় তিনজন বন্দি বাধ্য হচ্ছেন।
২০০৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ তিনতলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়, তবে তা এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে পুরনো কাঠামোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে, কারাগারে সহকারী সার্জন, ফার্মাসিস্ট এবং ডিপ্লোমা নার্সের পদবী দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বন্দিরা গুরুতর অসুস্থ হলে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা কারাগারে এসে সেবা প্রদান করেন, আর তীব্র রোগীর ক্ষেত্রে বিভাগীয় অনুমতি নিয়ে কারাগারের বাইরে চিকিৎসা করা হয়।
পানীয় জলের সরবরাহে ঘাটতি এবং শীতের তীব্রতায় জ্বর, সর্দি, কাশি, এলার্জি ও ডায়রিয়ার মতো রোগের বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বন্দিরা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে শারীরিক কষ্টে ভুগছেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের বিষয়।
শরীয়তপুর গণপূর্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুর ইসলাম জানিয়েছেন, কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন তাত্ক্ষণিক। বর্ষা মৌসুমে ভবনের ভিতরে পানি জমে যায়, যা অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। চার মাস আগে সংস্কারের জন্য চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, বন্দীর সংখ্যা বাড়ার ফলে অতিরিক্ত ডাক্তার নিয়োগ করা হয়েছে, তবে একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকায় রোগের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে অতিরিক্ত মেডিকেল স্টাফের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. বজলুর রশীদ জানান, ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দী থাকায় কারা বিধি অনুযায়ী সব সুবিধা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়মিতভাবে কারা অধিদপ্তরকে জানিয়ে আসছেন এবং সমাধানের জন্য আবেদন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, শরীয়তপুর জেলা কারাগারের অতিরিক্ত জনসংখ্যা, পুরনো অবকাঠামো এবং মৌলিক সেবার ঘাটতি একত্রে বন্দিদের মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অবিলম্বে নতুন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন, চিকিৎসা কর্মী নিয়োগ এবং পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।



