ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে এক যুবকের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটেছে। ৪০ বছর বয়সী বাবুল মোল্লা, স্থানীয় বাসিন্দা, কয়েকজন সাথীর সঙ্গে বাজি ধরে শীতল পানিতে একাধিকবার ডুব দেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে শক সৃষ্টি করেছে এবং তদন্তের দরজা খুলে দিয়েছে।
বাবুল মোল্লা এবং তার সঙ্গীরা কাচারিবাড়ি বাজারের কিছু লোকের সঙ্গে সকালবেলায় শীতল জলে ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা মোট ১১২ বার ডুব দিয়েছেন, যা শারীরিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। ডুবের পর শেষ পর্যায়ে বাবুল হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তখনই স্থানীয় মানুষ তাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটবর্তী রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকগণ জরুরি সেবা প্রদান করেন, তবে শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল উল্লেখ করেন, ঠান্ডা পানিতে অতিরিক্ত ডুব দেওয়া শারীরিক শক সৃষ্টি করতে পারে এবং এ ধরনের অতিরিক্ত শারীরিক চাপই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার পাশাপাশি রক্তচাপের হঠাৎ পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
রাজাপুর থানা থেকে ওয়ানডারিং অফিসার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির বিবৃতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে আছেন এবং প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি ডুবের সময় ব্যবহৃত পানির তাপমাত্রা ও সময়কাল সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটিকে অপরাধমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করছে, যদিও বর্তমানে কোনো অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাজি ধরা এবং অযৌক্তিক শারীরিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। আইনগত দিক থেকে, যদি প্রমাণিত হয় যে ডুবের সময় কোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হতে পারে।
স্থানীয় সমাজে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপের প্রতি সমালোচনা বাড়ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শীতল পানিতে অতিরিক্ত ডুব দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এমন ধরনের বাজি ধরা উচিত নয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কঠোর নিয়মাবলী ও সচেতনতা কর্মসূচি প্রত্যাশা করছেন।
অধিকন্তু, স্বাস্থ্য বিভাগও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শীতল পানিতে অতিরিক্ত ডুবের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করেছে। ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মকে ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ থেকে বিরত রাখা এবং নিরাপদ বিনোদনমূলক কার্যকলাপের দিকে উৎসাহিত করা।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করে ঘটনাস্থলের সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। ভবিষ্যতে যদি কোনো অতিরিক্ত শারীরিক চ্যালেঞ্জের ফলে অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তা দ্রুত সনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে, মামলাটি স্থানীয় থানা ও স্বাস্থ্য বিভাগে রেকর্ড করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শীতল পানিতে অতিরিক্ত শারীরিক চাপের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।



