আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রার্থীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল সহজ করার নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। ছুটির দিনেও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে হেল্পডেস্কের সহায়তা পাওয়া যাবে।
এনবিআর ২৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ই‑ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের অধীনে একটি হেল্পডেস্ক গঠন করা হয়েছে। এই ডেস্ক শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে ৫টা এবং শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেবে। হেল্পডেস্কের কাজের আওতায় রিটার্ন জমা সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা, ফরম পূরণে নির্দেশনা এবং সিস্টেমের কোনো ত্রুটি সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ছুটির দিনেও রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা করদাতাদের কর অফিস, ই‑ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট এবং রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) তে উপলব্ধ থাকবে। ফলে, প্রার্থীরা ও সাধারণ করদাতারা সপ্তাহান্তে বা সরকারি ছুটির দিনেও তাদের দায়িত্ব পূরণ করতে পারবে, যা পূর্বের সীমাবদ্ধতা দূর করবে।
এনবিআর সূত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে করদাতাদের সুবিধা বাড়াতে interim সরকার এই পদক্ষেপ নিতে পারে। রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বাড়াতে এবং অনলাইন বাধ্যতামূলক করার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা উঁচু।
আগে একবার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছিল, যা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, তবে এনবিআর গত আগস্ট থেকে অনলাইন দাখিলকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। ফলে, ২৬ লক্ষের বেশি করদাতা ইতিমধ্যে ই‑রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ. মনসুর উল্লেখ করেছেন, রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো এখনো চূড়ান্ত নয় এবং এটি সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অনলাইন দাখিলকে বাধ্যতামূলক করার পর প্রথমবারের মতো সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, তাই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো যায়নি।
অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক করার ফলে করদাতাদের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়েছে। বিশেষ করে প্রার্থীরা, যাদের আর্থিক বিবরণী নির্বাচন প্রচারের সঙ্গে যুক্ত, তারা দ্রুত ও সঠিকভাবে রিটার্ন জমা দিতে চাইবে। এই প্রেক্ষিতে ছুটির দিনেও সেবা প্রদান করদাতাদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, অনলাইন রিটার্নের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে কর সংগ্রহের কার্যকারিতা বাড়বে এবং শারীরিক অফিসে ভিড় কমবে। এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট ও রেকর্ড‑কিপিং সিস্টেমের উন্নতি কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়লে আর্থিক বছরের শেষের হিসাব সমন্বয় সহজ হবে এবং কর পরিশোধের সময়সূচি ব্যবসায়িক নগদ প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ফলে, করদাতাদের আর্থিক চাপ কমে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে মনোযোগ বাড়বে।
অন্যদিকে, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ার সম্ভাবনা কিছু ঝুঁকি নিয়ে আসে। যদি সময়সীমা দীর্ঘায়িত হয়, তবে করদাতাদের দেরি করে জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত কর সংগ্রহে বিলম্ব ঘটাতে পারে। তাই, সরকার ও এনবিআরকে সময়সীমা বাড়ার পরেও ত্বরিত দাখিলের জন্য প্রণোদনা ও শাস্তি ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, ছুটির দিনেও অনলাইন রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ এবং হেল্পডেস্কের সেবা করদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। এটি নির্বাচনকালীন আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে সময়সীমা বাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে, তা করদাতাদের প্রস্তুতি ও আর্থিক পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলবে, তাই যথাযথ নীতি নির্ধারণ জরুরি।



