বিএনপি গুলশান অফিসে গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য ১০টি আসনে জোটের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়েছে। পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হিসেবে জোটবদ্ধ শক্তি একত্রিত করে বিরোধী গোষ্ঠীর ভোট ভাগ করার কথা উল্লেখ করেন।
বিএনপি মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেবে, আর বাকি ১৪টি আসন জোটের পার্টিগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১০টি আসন জোটের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ফলে, পার্টি এখন মোট ১৪টি আসন শূন্য রেখে জোটের প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে।
গতকাল দুইজন জোটের নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি-তে যোগদান করেন, আর আরেকজনের যোগদানের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই নেতারা প্যাডি শেফ চিহ্ন ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বিএনপি নিম্নলিখিত সাতটি আসনে প্রার্থী দেবে না: পিরোজপুর‑১, ঝিনাইদহ‑৪, ঢাকা‑১২, যশোর‑৫, বগুড়া‑২, পটুয়াখালী‑৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑৬। এই আসনগুলোতে জোটের পার্টিগুলো নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বগুড়া‑২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না তার পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একইভাবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑৬ আসনে গণসম্মতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জনায়েদ সাকি তার পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রার্থী হবেন।
পিরোজপুর‑১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজি জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার তার পার্টির প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পটুয়াখালী‑৩ আসনে গন অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর তার পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রার্থী হবেন।
ঝিনাইদহ‑৪ আসনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তার পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এসব প্রার্থীর নাম ও পার্টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা জোটের মধ্যে সমন্বয়কে স্পষ্ট করে।
বিএনপি মঙ্গলবার জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম বাংলাদেশ পার্টির সঙ্গে চারটি আসন ভাগ করার ঘোষণা দেয়। এই চুক্তি পূর্বে ঘোষিত জোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, ফখরুল আলমগীর জানান যে অন্যান্য জোটের পার্টিগুলোর সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান এবং শীঘ্রই অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএনপি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধী গোষ্ঠীর ভোট একত্রিত করে সরকারবিরোধী শক্তির সমন্বয় বাড়াতে চায়। জোটের পার্টিগুলোকে নিজস্ব প্রতীক দিয়ে প্রার্থী দানের মাধ্যমে ভোটের বিভাজন কমিয়ে, নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
এই চুক্তি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে, যেখানে জোটের পার্টিগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে আরও আসন ভাগের আলোচনা এবং জোটের কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।



