22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসলামিক আটদল সিট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা শেষের কাছাকাছি

ইসলামিক আটদল সিট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা শেষের কাছাকাছি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নামজোগান জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত, আর আটটি ইসলামিক দল সমন্বিত ব্লক এখন সিট‑বণ্টনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার শেষ পর্যায়ে। জামায়াত‑ই‑ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী নীতি অনুসরণ করা হবে, যেখানে প্রতিটি সংসদীয় এলাকা থেকে মাত্র একজন প্রার্থী দৌড়াবে।

ব্লকের নেতৃত্ব রাইডের কোনো ফাটল নেই বলে জোর দিয়ে বলেছে এবং শীঘ্রই প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো একত্রে বেশি সংখ্যক আসন জয় করা, এজন্য পার্টিগুলো একে অপরের শক্তি ও ভোটারদের মনোভাব বিবেচনা করে প্রার্থী নির্ধারণে সময় নিচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা হয় ৯ নভেম্বর, যখন শীর্ষ নেতারা ৩০০টি সংসদীয় সিটের জন্য প্রার্থী নির্বাচন শুরু করেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ একশের বেশি নাম প্রস্তাব করেছে, বাংলাদেশ খলাফত মজলিস (মামুনুল হক) প্রায় পঁয়তাল্লিশটি নাম জমা দিয়েছে, আর বাকি দলগুলো প্রত্যেকটি প্রায় দশ থেকে বিশটি নাম উপস্থাপন করেছে।

জামায়াত‑ই‑ইসলামির সূত্র অনুযায়ী, তারা ৬০ থেকে ৭০টি সিট ছাড়া অন্য কোনো সিট ত্যাগ করতে ইচ্ছুক নয়। এই অবস্থান অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃঢ় বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ব্লকের অভ্যন্তরে কয়েকটি রাউন্ডের বৈঠক এবং দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়ে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্তের দিকে এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা একে অপরের প্রস্তাবিত নামগুলো পর্যালোচনা করে, ভোটারদের পছন্দ ও প্রতিদ্বন্দ্বীর শক্তি বিশ্লেষণ করে সমন্বয় সাধন করছেন।

জামায়াতের সহকারী সচিব জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, প্রার্থীর তালিকা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষ নেতারা আগামীকাল আবার একত্রিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালিকা প্রস্তুতিতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন জয়ের জন্য প্রার্থীর উপযুক্ততা, প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তুলনা এবং প্রতিটি সিটের ভোটারদের মানসিকতা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিয়েছে, তবে ফলস্বরূপ একটি শক্তিশালী প্রার্থী সমাবেশ গড়ে তোলার আশা করা হচ্ছে।

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইউনুস আহমেদও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তিনি যোগ করেন যে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের পটভূমি ও পূর্বের কার্যক্রমের যথাযথ যাচাই করা হচ্ছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো অবৈধ বা অনুপযুক্ত রেকর্ডযুক্ত প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ব্লক আগামী কয়েক দিন মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের পরিচয় জানাবে। তালিকা প্রকাশের পর প্রতিটি দল নিজ নিজ প্রচারণা চালাবে, এবং একক প্রার্থী নীতি অনুসারে প্রতিটি সিটে একাধিক পার্টির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি আটদল এই সমঝোতা বজায় রাখতে পারে এবং একক প্রার্থী নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে, তবে তারা ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী ভিত্তি থাকা এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জিততে পারে। তবে শেষ মুহূর্তের কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন বা পার্টি-ভিত্তিক বিরোধের সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments