পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদ গতকাল “রেগুলেশন অব কাইট ফ্লাইং বিল‑২০২৫” নামে একটি আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ঘুড়ি উড়ানো এবং নির্দিষ্ট ধরনের মাঞ্জা ব্যবহারকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই আইনটি ঘুড়ি উড়ানোর সময় ব্যবহৃত নাইলন, ধাতব তার, কাচ বা রাসায়নিক মিশ্রিত মাঞ্জা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে এবং পূর্বে এই উপকরণগুলো ব্যবহার করে ঘটিত বহু দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির প্রতিক্রিয়ায় গৃহীত হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ঘুড়ি উড়ানো, নিষিদ্ধ মাঞ্জা তৈরি, সংরক্ষণ বা বিক্রি করলে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ বিশ লাখ রুপি জরিমানা আরোপিত হবে। উভয় শাস্তি একসাথে আরোপের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
যেসব ব্যক্তি নিষিদ্ধ মাঞ্জা বা ঘুড়ি তৈরী, বিক্রি বা বিতরণে জড়িত থাকবে, তাদের জন্য শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পঞ্চাশ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারিত হয়েছে। এসব অপরাধকে অ-জামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অর্থাৎ অভিযুক্তকে জামিন ছাড়াই গ্রেফতার করা হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে, যদি তারা এই আইন লঙ্ঘন করে, তবে মামলা পরিচালনা করা হবে ২০১৮ সালের জুভেনাইল জাস্টিস সিস্টেম আইনের অধীনে। কোনো শিশুর জরিমানা পরিশোধে অক্ষমতা দেখা দিলে, তার অভিভাবক বা পিতামাতার কাছ থেকে সমান পরিমাণ অর্থ আদায় করা হবে।
আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল ঘুড়ি ও অনুমোদিত সুতা তৈরী ও বিক্রির জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা। নিবন্ধন ছাড়া বিক্রি করলে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা আরোপিত হবে। এই ব্যবস্থা বাজারে অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, আইন লঙ্ঘনের তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার রুপি পর্যন্ত পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। এই প্রণোদনা তথ্যদাতাদের সক্রিয়ভাবে অবৈধ কার্যক্রমের রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করবে।
প্রস্তাবিত বিধানগুলো পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা ও শহরে ঘুড়ি উড়ানোর সময় ঘটিত দুর্ঘটনা কমাতে লক্ষ্য করে গৃহীত হয়েছে। অতীতে, নাইলন বা ধাতব তারযুক্ত মাঞ্জা ব্যবহার করে ঘুড়ি উড়ানোর ফলে গাছ, বিদ্যুৎ লাইন এবং মানুষের ওপর আঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে। নতুন আইন এই ধরনের ঝুঁকি দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ ঘুড়ি উড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
আইনটি পাঞ্জাবের আইনসভা সদস্যদের মধ্যে বেশ সমর্থন পেয়েছে, যারা এটিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কিছু গোষ্ঠী আইনকে অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছে, কারণ তারা দাবি করে যে নিবন্ধন ও শাস্তি প্রক্রিয়া ছোট ব্যবসা ও শখের উড্ডয়নকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, আইন প্রয়োগে পাঞ্জাবের পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বৈধ ঘুড়ি উড়ানোর ব্যবসা দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারে।
এই আইন পাসের পর, পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরে ঘুড়ি উড়ানোর ক্লাব ও সংগঠনগুলোকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং তাদের সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করতে হবে। ভবিষ্যতে, আইন প্রয়োগের ফলাফল ও দুর্ঘটনা হ্রাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সংশোধনী আনা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পাঞ্জাবের নতুন “রেগুলেশন অব কাইট ফ্লাইং বিল‑২০২৫” ঘুড়ি উড়ানোর সময় ব্যবহৃত বিপজ্জনক উপকরণ নিষিদ্ধ করে, শাস্তি বৃদ্ধি করে এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জনসচেতনতায় গুরুত্বারোপ করা হবে, যাতে ঘুড়ি উড়ানোর শখকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উপভোগ করা যায়।



