বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ১১:৪১ টায় অবতরণের পর চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসকে ফোন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তরিকের ফোন কলের সময় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য interim সরকারের করা পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সময়ে তিনি ফেসবুকে একটি অডিও পোস্টে ইউনুসের স্বাস্থ্যের শুভেচ্ছা জানিয়ে, প্রার্থনা ও সমর্থনের অনুরোধ করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ফেসবুক পোস্টে তরিকের কণ্ঠে শোনা যায়, “আপনার স্বাস্থ্যের কী অবস্থা? আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।” এই অডিওটি পোস্টের সঙ্গে যুক্ত একটি ছবি তোলার সময়ের দৃশ্যও দেখায়, যেখানে তরিক শ্যামল লাউঞ্জে বসে ফোনে কথা বলছেন, তার পাশে তার শাশুড়ি সাইদা ইকবাল ম্যান্ড বানু এবং স্ত্রী জুবাইদা রহমান উপস্থিত।
তরিকের অবতরণে উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের কর্মীরা, যারা নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে তার গমনপথ নিশ্চিত করেন। তরিকের পরিবারকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিশেষ নিরাপত্তা দল গঠন করা হয়েছিল, যা interim সরকারের নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করে। তরিকের এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার রাজনৈতিক সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিকালের জনসমাবেশে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা জানান।
বুধবার বিকেল ৩:৫৪ টায় তরিকের দল একটি জনসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে পৌঁছায়। এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তরিকের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা, interim সরকারের নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি interim সরকারের চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তরিকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা interim সরকারের অগ্রাধিকার। এই নীতি অনুসারে, নিরাপত্তা দপ্তর বিশেষ দল গঠন করে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিএনপি ও সরকারী পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক এই পারস্পরিক স্বীকৃতি, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। তরিকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অধিকন্তু, তরিকের পরিবারিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থা, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের জন্যও একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। নিরাপত্তা দপ্তরের এই পদক্ষেপগুলো, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনায় তরিকের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশিত কৃতজ্ঞতা, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার নতুন দিক যোগ করেছে। তরিকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা আসতে পারে, তাই সরকারী নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, তরিক রহমানের চিফ অ্যাডভাইজার ইউনুসকে ফোনে ধন্যবাদ জানানো এবং ফেসবুকে অডিও শেয়ার করা, interim সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি তার সন্তোষ প্রকাশের একটি উদাহরণ। এই ঘটনা, দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও তার প্রভাব সম্পর্কে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে।



