বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডন থেকে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসেন, ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ঃ৪০ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। প্রথমে সিলেটের এক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তিনি ঢাকা‑শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সরাসরি বাসে চড়ে দলের গণসংবর্ধনা মঞ্চের দিকে রওনা হন।
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমানকে অনুসরণ করে দলের কর্মীরা জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে পথে গিয়ে তার সঙ্গে বাসে চড়ে চলা দলীয় সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন। বাসটি ৩০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তায় থেমে, উভয় পাশে বিশাল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক জড়ো হয়।
মঞ্চের দু’পাশে প্রায় ৩০০ ফুট পর্যন্ত সীমানা গড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভিড়ের মধ্যে তারেক রহমান বাসের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে উপস্থিতদের শুভেচ্ছা জানান। তার উপস্থিতি দেখে সমাবেশে উপস্থিত কর্মীরা উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন এবং দলীয় পতাকা উড়িয়ে তোলেন।
তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্টে তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্কে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “আপনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা আপনি হীন করেন।” তিনি এই বক্তব্যে মানবিক ও রাজনৈতিক সকল ঘটনার পেছনে ঈশ্বরের ইচ্ছা ও ক্ষমতার ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
বিএনপি কর্মীরা তারেক রহমানের এই উক্তিকে দলের স্বনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য নতুন উদ্যমের সঞ্চার ঘটেছে।
অপরপক্ষে, শাসনকর্তা আওয়ামী লীগ নেতারা তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, তার প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে।
বিএনপি দলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি দলীয় সংগঠনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেবে। তিনি আগামীকাল নির্ধারিত গণসংবর্ধনা সমাবেশে দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি ব্যাপক ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি দলের নীতি, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
সমাবেশের পর তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি তার মা‑কে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। এ সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটিয়ে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা বিএনপির সংগঠনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দলীয় ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করবে। তার উপস্থিতি পার্টির তরুণ কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম জাগিয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী জোট গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
দলীয় কর্মীরা ইতিমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে সমন্বয় করে, আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন জেলায় র্যালি ও সভা আয়োজনের পরিকল্পনা চালু করেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দলীয় সমর্থন বাড়িয়ে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করেছে। তার উপস্থিতি ও পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা দেশের রাজনৈতিক সমতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।



