মাইডুগুরি, বর্ণো রাজ্যের রাজধানী শহরে সন্ধ্যা প্রার্থনা চলাকালীন একটি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ঘটেছে এবং মসজিদে উপস্থিত উপাসকদের লক্ষ্যবস্তু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, বোমাটি সন্দেহভাজন আত্মহত্যাকারী দ্বারা ধরা হয়। এই হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন উপাসক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ত্রিশ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুতই ইউনিভার্সিটি অব মাইডুগুরি টিচিং হসপিটাল ও স্টেট স্পেশালিস্ট হসপিটালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলকে অবিলম্বে নিরাপদ করে এবং বিস্ফোরণ স্থানকে বোমা নিষ্কাশন দল দ্বারা ঘেরাও করে।
সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের মুহূর্তে মসজিদে আতঙ্কের স্রোত বয়ে যায় এবং মানুষ দ্রুত বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করে। কিছু উপাসককে গাড়ি ও রিকশা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, অন্যরা পায়ে হেঁটে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছায়। আহতদের মধ্যে বয়সের বৈচিত্র্য দেখা যায়, কিছু শিশু ও বয়স্ক নাগরিকও শিকার হয়েছে। স্থানীয় বাজারের নেতা মস্তা দালরি বলেন, “প্রার্থনা চলাকালে বোমা ফাটল ধরেছে, আল্লাহর ইচ্ছা যা ঘটেছে তা আমরা মেনে নিতে পারি, তবে কীভাবে ঘটেছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।” তিনি পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা ও শোক প্রকাশ করেন।
বর্ণো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম ঘটনাটিকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়, বর্বর এবং অমানবিক” বলে নিন্দা করেন। তিনি একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “উপাসনাস্থলে আক্রমণ করা মানে পবিত্রতার অপমান, বিশেষ করে যখন মুসলিম সম্প্রদায় প্রার্থনা করছে।” জুলুম পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি উৎসব মৌসুমে ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেন।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, বোমা নিষ্কাশন দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে বিস্ফোরণ স্থানকে নিরাপদ করে। স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের মুখপাত্র কেনেথ ডাসো জানান, “বোমা নিষ্কাশন দল বর্তমান সময়ে এলাকায় ঘেরাও বজায় রেখেছে এবং বিস্তৃত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করে।
এই হামলা কোনো গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকার করা হয়নি, তবে বর্ণো রাজ্যের উত্তর-পূর্ব অংশে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি উগ্রবাদের গোষ্ঠী বোকো হারাম ও তার শাখা আইএসডব্লিউএপি সক্রিয়। এই গোষ্ঠীগুলি গত পনেরো বছর ধরে বেসামরিক নাগরিক, মসজিদ, বাজার ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কার্যক্রমে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই ধরনের আত্মঘাতী হামলা উগ্রবাদের কৌশলের অংশ হতে পারে।
আগস্ট মাসে নাইজেরিয়ার কাতসিনা রাজ্যের উত্তরে একটি মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী বাড়িতে গুলিবর্ষণ ঘটায়, যেখানে কমপক্ষে পঞ্চাশজনের মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তবে এই সাম্প্রতিক হামলা সেই প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। উগ্রবাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধর্মীয় স্থাপনাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা সমাজের সংহতি ও শান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য বহন করে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, বর্ণো রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক মাসে অবনতির দিকে ধাবিত হয়েছে এবং সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা সুপারিশ করেন যে, ধর্মীয় ও জনসাধারণের স্থানে নিরাপত্তা ক্যামেরা, প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল স্থাপন করা উচিত। এছাড়া, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সন্দেহজনক আচরণ দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, মাইডুগুরি মসজিদে ঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলা দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের নতুন এক দিক উন্মোচন করেছে। পাঁচজনের মৃত্যু ও ত্রিশ পাঁচজনের আঘাতের পর, সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করে পুনরায় এমন দুঃখজনক ঘটনা রোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় ও জনসাধারণের স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উগ্রবাদের কার্যক্রম দমন করা এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা জরুরি।



