রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায় হোসেনডাঙ্গা গ্রামে গত রাত ১১ টার কাছাকাছি এক গ্যাংবন্দি জবরদস্তি অভিযোগে গৃহস্থালীর প্রতিবাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তবে শিকারের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া যায় আমৃত মন্ডল নামে, যাকে স্থানীয়ভাবে সম্রাট নামে পরিচিত। তিনি একই গ্রামেই বসবাস করতেন এবং গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হোসেনডাঙ্গা গ্রাম থেকে তথ্য পাওয়ার পর পাংশা সি.ই.ডি.-এর সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট দেবে রতা সরকার现场ে তৎক্ষণাৎ পৌঁছান। শিকারের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল, তাই তাকে পাংশা উপজেলায় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডাক্তারবৃন্দ শিকারের শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় প্রায় রাত ২ টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি রাজবাড়ি সদর হাসপাতালের মরগে পাঠিয়ে অটোপসি করা হয়।
হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ শিকারের এক সহচর মোহাম্মদ সেলিমকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দুটি অস্ত্র—একটি পিস্তল এবং একটি একশুটার গন—যাচাই করা হয়।
সেলিমের গ্রেফতারকালে পাওয়া অস্ত্রগুলো তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয় এবং তাকে জেলখানায় রাখা হয়। শিকারের দেহের অটোপসির ফলাফল আইনগত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্রাট দীর্ঘ সময় ধরে জবরদস্তি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পূর্বে ভারতের সীমান্তে লুকিয়ে ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আবার অপরাধ চালু করেন।
পাংশা থানা থেকে শিকারের বিরুদ্ধে অন্তত দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এই মামলাগুলো ইতিমধ্যে আদালতে দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
শহরের এক বাসিন্দা শাহিদুল ইসলামকে সম্রাট ও তার গ্যাং থেকে জবরদস্তি অর্থের দাবি করা হয়। শিকারের দল শাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করে, তবে বাসিন্দারা আতঙ্কে চিৎকার করে “ডাকাত!” বলে প্রতিবাদ জানায়।
এই চিৎকারের প্রতিক্রিয়ায় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্রাটকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়, তবে সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের মতে, গ্যাংবন্দি হিংসা ঘটার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আইনি পদক্ষেপ নেয়। শিকারের গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদেরও অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
অটোপসির ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগে মামলাটি উপস্থাপন করা হবে এবং আদালতে শিকারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, জবরদস্তি ও হিংসা সংক্রান্ত আইনি ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি নির্ধারণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই ধরনের গ্যাংবন্দি হিংসা রোধে সতর্কতা বাড়াতে এবং গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।



