মোগাদিশু শহরে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় (গ্রীনউইচ সময় ৩টা) ভোটদান শুরু হয়, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি তাদের স্থানীয় পরিষদের প্রতিনিধিকে বেছে নেবে। এটি ১৯৬৯ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটের সুযোগ, যা দেশের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ভোটার নিবন্ধিত হয়ে ৩৯০টি জেলা পরিষদের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ১,৬০৫ জন প্রার্থী। ভোটদান কেন্দ্রগুলো শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৫২৩টি স্থানে স্থাপিত, যেখানে নাগরিকদের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় দশ হাজার পুলিশকে মোতায়েন করেছে এবং পুরো শহরে গাড়ি ও পায়ে চলার উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। মোগাদিশু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়ানও স্থগিত করা হয়েছে, যাতে কোনো অনিচ্ছাকৃত ঘটনা না ঘটে।
বছরের শুরুতে মোগাদিশুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও, সরকার এখনও আল-শাবাব নামে আল-কায়দা-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা গত অক্টোবর মাসে একটি বড় আক্রমণ চালিয়েছিল।
তথ্য মন্ত্রী দাউদ আওয়েস এই নির্বাচনকে “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্জাগরণ” বলে বর্ণনা করেছেন, যা বহু দশক ধরে অনুপস্থিত ছিল। নির্বাচনী কমিশনের চেয়ারম্যান আবদিকারিম আহমেদ হাসান ভোটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
সোমালিয়া শেষবার সরাসরি নির্বাচন করেছিল ১৯৬৯ সালে, যা কয়েক মাস পরে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিন দশক নাগরিকদের ক্ষমতা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
১৯৯১ সালে সামরিক শাসক মোহামেড সিয়াদ বারের পতনের পর দেশটি দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের মধ্যে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ২০০৪ সালে একটি অনির্দিষ্ট, গোষ্ঠীভিত্তিক নির্বাচনী পদ্ধতি গ্রহণের দিকে নিয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে গোষ্ঠী প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন করে, আর সেই নেতারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে।
এই পদ্ধতি প্রায়ই শীর্ষ পদপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান শেইখ মোহামুদ, যিনি পূর্বে দুইবার এই পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসেছেন, ২০২৩ সালে সর্বজনীন ভোটের দিকে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্টের সরকার সংসদে সংবিধান সংশোধনের অনুমোদন পেয়েছে, যা স্থানীয়, ফেডারেল এবং রাষ্ট্রপতি স্তরে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এই সংস্কারগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য রাখে।
বিপক্ষের কিছু দল ও গোষ্ঠী এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভোটের বৈধতা ও অংশগ্রহণের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সরকার এই বয়কটকে সাময়িক বাধা হিসেবে দেখছে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি সফল হয়, তবে এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াতে সহায়তা করবে।
অবশেষে, মোগাদিশুতে এই ঐতিহাসিক ভোটদান দেশের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে এসে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



