22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসৌদি আরবের দাবি: ইয়েমেনের দক্ষিণ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হদ্রামুট ও আল-মাহরা থেকে প্রত্যাহার করুক

সৌদি আরবের দাবি: ইয়েমেনের দক্ষিণ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হদ্রামুট ও আল-মাহরা থেকে প্রত্যাহার করুক

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের প্রধান দক্ষিণ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী—সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)—কে হদ্রামুট ও আল-মাহরা প্রদেশ থেকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়। এই দুই প্রদেশে STC গত মাসের শুরুর দিকে সামরিক অভিযান চালিয়ে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল ও কৌশলগত সড়কগুলো দখল করে, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সৌদি সরকার এই পদক্ষেপকে “অনধিকারিক উত্তেজনা” বলে সমালোচনা করে এবং সকল ইয়েমেনি গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও সংযমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যাতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং অনিচ্ছাকৃত পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই, STC-কে দুই প্রদেশের সীমা পেরিয়ে পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসে, সেখানে গড়ে তোলা ক্যাম্পগুলো জাতীয় শিল্ড ফোর্সের হাতে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। জাতীয় শিল্ড ফোর্স হল আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী, যা দেশের ভূখণ্ড রক্ষা ও শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দায়িত্বে রয়েছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে চালু রয়েছে এবং তারা আশা প্রকাশ করেছে যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দ্রুত ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে পদত্যাগ করবে, যাতে অঞ্চলটি পুনরায় স্থিতিশীল হয়। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (GCC) সদস্য দেশগুলোও অংশগ্রহণ করছে, যা সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত।

STC, যা পূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হদ্রামুট ও আল-মাহরা প্রদেশে দ্রুত অগ্রসর হয়ে তেলক্ষেত্র, সরকারি ভবন এবং সীমান্ত পারাপারস্থল দখল করে। এই দখলকালে কোনো বড় প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়নি, এবং গোষ্ঠী তৎক্ষণাৎ তেল রপ্তানি ও সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়। তেলসম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলো, বিশেষ করে হদ্রামুট, দেশের মোট তেল উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে।

একই সময়ে, গোষ্ঠী আদেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের অস্থায়ী সদর দফতরকে প্রভাবিত করে। প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দখল সরকারী কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইয়েমেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্রকে তীব্রতর করে তুলেছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৫ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরোধে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও STC বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বভাবের, তবু এটি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (PLC) একটি অংশ, যা সৌদি আরবের সমর্থনে গঠিত এবং দেশের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। PLC-তে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত, এবং STC-র কার্যক্রম কোয়ালিশনের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

দুই গাল্ফ দেশ ১২ ডিসেম্বর আদেনে একটি যৌথ দল পাঠিয়ে বিরোধের সমাধানের জন্য আলোচনা চালায়। এই দলটিতে উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল, এবং তারা সরাসরি STC ও সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং করে সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা করে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সমঝোতা অর্জিত হয়নি এবং আলোচনায় মূল বিষয়—প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ—অবিকল রয়ে গেছে।

সৌদি আরবের হদ্রামুটের সঙ্গে ৬৮৪ কিলোমিটার (৪২৫ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সীমান্তের মাধ্যমে তেল ও গ্যাসের রপ্তানি, পাশাপাশি মানবিক সাহায্যের প্রবাহ ঘটে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং গাল্ফ নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি STC প্রত্যাহার না করে, তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে পারে, যা হুথি বিরোধের মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশ

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments