বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিএবি) চট্টগ্রাম রয়্যালসের দলীয় মালিকানা অধিকার সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে এবং বিপিএল সিজনের বাকি অংশে দলটি পরিচালনা করবে। এই সিদ্ধান্তটি বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন দলটি আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ছিল। ফলে দলটি এখন সরাসরি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে থাকবে, যা লিগের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পূর্বের মালিকানা কাঠামোতে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল, যার ফলে দলটি খেলোয়াড়দের বেতন ও অন্যান্য খরচের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। এই পরিস্থিতি লিগের শিডিউল এবং অন্যান্য দলের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারত। তাই, বিসিএবির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দলটির আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কোনো ব্যাঘাত না ঘটার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিসিএবির এই পদক্ষেপটি লিগের গৃহস্থালির নীতি ও নিয়মাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা অধিকার গ্রহণের মাধ্যমে লিগের প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় থাকবে এবং টিকিট বিক্রয়, স্পন্সরশিপ ও মিডিয়া চুক্তি সুষ্ঠুভাবে চলবে। এছাড়া, দলটির পরিচালনা সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত এখন সরাসরি বিসিএবির অনুমোদন পাবে।
একই সঙ্গে, বিসিএবি হাবিবুল বশারকে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মেন্টর হিসেবে নিয়োগ করেছে। বশার, যিনি জাতীয় দলের সাবেক ক্যাপ্টেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে দলকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেবেন। মেন্টর হিসেবে তার দায়িত্বে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি, ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা এবং ম্যাচের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বশারকে মেন্টর হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে বোর্ডের লক্ষ্য হল, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং দলকে সিজনের শেষ পর্যন্ত উচ্চমানের পারফরম্যান্সে পৌঁছানো। তিনি পূর্বে বিভিন্ন টিমের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। মেন্টরশিপের মাধ্যমে তিনি দলকে ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রদান করবেন।
বিসিএবির এই সিদ্ধান্তের পর লিগের অন্যান্য দল ও কর্মকর্তারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের স্থিতিশীলতা পুরো লিগের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বোর্ডের হস্তক্ষেপ লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখবে। এছাড়া, মেন্টর হিসেবে বশারের যোগদানের ফলে দলটির কৌশলগত দিক থেকে উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিডিউল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। দলটি এখন নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ সেশনে পূর্ণ উদ্যমে অংশগ্রহণ করছে। ম্যাচের আগে দলটি কন্ডিশনিং ও ট্যাকটিক্সে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, যাতে সিজনের বাকি অংশে ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করা যায়।
বিসিএবির এই পদক্ষেপের ফলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের আর্থিক দায়বদ্ধতা দ্রুত সমাধান হবে এবং দলটি আর্থিক বাধা ছাড়াই খেলতে পারবে। এছাড়া, মেন্টরশিপের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। লিগের সামগ্রিক গুণগত মান বজায় রাখতে এই ধরনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিসিএবি এই সিদ্ধান্তের সাথে সাথে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি দলটির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন, ট্যালেন্ট স্কাউটিং এবং স্পন্সরশিপ কৌশল নির্ধারণে কাজ করবে। ফলে দলটি শুধুমাত্র বর্তমান সিজনে নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অর্জনের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
বসের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিসিএবি চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা অধিকার গ্রহণকে লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, লিগের সকল দলকে সমান সুযোগ ও সমর্থন প্রদান করা বোর্ডের মূল নীতি। এই নীতি অনুসরণে ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের খেলোয়াড়রা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং নতুন মেন্টরের অধীনে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উদগ্রীব। তারা প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে দলীয় সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই প্রস্তুতি সিজনের বাকি অংশে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।
লিগের সমর্থক ও ভক্তদের কাছেও এই খবরটি স্বাগত জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন যে, নতুন ব্যবস্থাপনা ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের পারফরম্যান্সে উন্নতি হবে এবং ম্যাচগুলোতে উত্তেজনা বাড়বে। ভক্তদের উপস্থিতি ও উত্সাহ দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম রয়্যালসের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা এখনো নির্ধারিত নয়, তবে বিসিএবির হস্তক্ষেপ ও হাবিবুল বশারের মেন্টরশিপ দলকে সঠিক পথে চালিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। লিগের অন্যান্য দলও এই পরিবর্তনকে নজরে রাখবে এবং নিজেদের কৌশল সামঞ্জস্য করবে।
সামগ্রিকভাবে, বিসিএবির চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা অধিকার গ্রহণ এবং হাবিবুল বশারকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ লিগের গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটি আর্থিক স্থিতিশীলতা, কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি সবই একসাথে উন্নত হবে। ভবিষ্যতে লিগের উন্নয়নে এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



