সকালবেলায় সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কোচ নাজমুল হোসেন শান্তকে হান্নান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে। দলটি এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন শুরু করতে পারেনি, তাই এই সাক্ষাৎকারে শীর্ষ পরিকল্পনা ও ট্যাকটিক্যাল দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শান্তের প্রধান লক্ষ্য হল এই মৌসুমে নিজের পারফরম্যান্সকে উঁচুতে তুলে নিয়ে আবার জাতীয় দলে স্থান পেতে সক্ষম হওয়া। তিনি গত টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন, তবে এই বছরের বিশ্বকাপের আগে তিনি দলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
তার আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টি রেকর্ডে ৫০টি ম্যাচে মোট ৯৮৭ রান রয়েছে, গড় ২২.৯৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৯.০৬। যদিও অভিজ্ঞতা বেশি, তবে গড় ও রেটের ভিত্তিতে তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিপিএল‑এর ২০২৩ মৌসুমে শান্ত ৫১৬ রান সংগ্রহ করে শীর্ষ স্কোরারদের মধ্যে ছিলেন, যা তার ব্যাটিং ক্ষমতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে পরের সিজনে তিনি মাত্র পাঁচটি ম্যাচই খেলতে পেরেছেন, ফলে তার আউটপুট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এই বছর শর্তসাপেক্ষে তিনি আরও বেশি ম্যাচে অংশ নিতে চান, যাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজরে আসার সুযোগ বাড়ে। তিনি নিজে বলছেন, দলকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা তার প্রধান দায়িত্ব, ব্যক্তিগত লক্ষ্য তার পরের স্তরে।
শান্তের মতে, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিপিএল একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে ভালো পারফরম্যান্স করলে আন্তর্জাতিক নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলকে সেরা ভাবে সাহায্য করা আমার মূল উদ্দেশ্য।”
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে তিনি ১৯‑তম ইনিংসে অংশ নিতে পারেননি, ফলে অধিনায়কত্ব হারিয়ে দলে তার স্থানও হ্রাস পেয়েছে। এই বছর তিনি মাত্র একটিই আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন, শারজাহতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৭ রান করে শেষ করেছেন।
জাতীয় লিগের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তিনি এক ম্যাচে ৬৫ রান তৈরি করলেও, বাকি তিনটি ইনিংসে মোট ২৭ রানই সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই ফলাফলগুলো তাকে বিশ্বকাপের জন্য অতিরিক্ত পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
শান্তের ব্যাটিং স্টাইল বামহাতি, তবে তিনি বর্তমানে কৌশলগত দিকের চেয়ে রান সংগ্রহে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তার মতে, “রান করাটাই আসল লক্ষ্য, কন্ডিশন ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”
বিপিএল‑এর শুরুর আগে তিনি ২৭ বছর বয়সী, এবং তার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে তিনি দলকে গৌরবময় করার পাশাপাশি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।
কোচ ও অধিনায়ক হিসেবে তিনি দলের কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, এবং খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। তার নেতৃত্বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে।
বিপিএল‑এর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শান্তের উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স দলকে টুর্নামেন্টে অগ্রসর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং তার সফলতা জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ পেতে সহায়ক হবে।



