রাজবাড়ীর বালিকান্দি উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় নয়টায় একটি ভ্যান ও একটি মাহেন্দ্র গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটায়। সংঘর্ষের ফলে ৬৫ বছর বয়সী কৃষক লুৎফর রহমান মন্ডল প্রাণ হারান, আর ভ্যান চালকসহ তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন।
ঘটনা ঘটে বালিকান্দি নারুয়া সড়কের বালিকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার মো. আব্দুর রব তালুকদার জানান, ভ্যানটি নারুয়া থেকে নিকটস্থ নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে চারটি পেঁয়াজের চারা নিয়ে বালিকান্দি বাজারের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। রেজাউল ইসলামের বাড়ির সামনে গাড়ি দুটির মুখোমুখি হওয়ায় টাকার মতো সময়ে ধাক্কা লাগে।
ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের চালক নাদেশ শেখ (৬৫) এবং সাথীরা রুহুল আমিন সরদার (৬০) ও আব্দুস সালাম শেখ (৫৫) গুরুতর আঘাত পেয়ে বালিকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক লুৎফর রহমান মন্ডল (৬৫), যিনি নিশ্চিন্তপুর গ্রাম, বালিকান্দি সদর ইউনিয়নের আবদুল গনি মন্ডলের পুত্র, আহতদের সঙ্গে ছিলেন। চিকিৎসা সত্ত্বেও ডাক্তার লুৎফর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, ভ্যানের চারজন যাত্রী ও চালককে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী সেবার প্রয়োজন হতে পারে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। অফিসার রাব জানান, ধাক্কা ঘটার পর মাহেন্দ্র গাড়ির চালক গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা এখনো ধরা পড়েনি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির নম্বর প্লেট ও সাক্ষীদের বিবরণ সংগ্রহ করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভ্যানটি পেঁয়াজের চারা বহন করছিল, আর মাহেন্দ্র গাড়ি বিপরীত দিক থেকে একই পথে চলছিল। দু’গাড়ির গতি ও সিগন্যালের অবহেলা সম্ভবত সংঘর্ষের মূল কারণ। পুলিশ এখনো গাড়ির গতি, চালকের লাইসেন্স ও রেকর্ড যাচাই করছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, স্থানীয় ট্রাফিক নিয়মাবলী ও রাস্তায় সিগন্যালের উপস্থিতি যাচাই করা হবে। এছাড়া, দুর্ঘটনা ঘটার সময় রোডের অবস্থা, দৃশ্যমানতা ও কোনো বাধা ছিল কিনা তা নির্ণয় করা হবে।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, মৃত কৃষকের পরিবারকে সমবেদনা জানায় এবং আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন কর্মীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে রাস্তায় গতি সীমা, সিগন্যাল ও নিরাপদ চালনার নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



