বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারিক পোষা বিড়াল জিবু আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, জিবু বিশেষ অনুমোদন পেয়ে দেশে প্রবেশ করেছে এবং কোনো ঘটনার সম্মুখীন হয়নি। এই ঘটনার সময় তারেক রহমানের নিজস্ব বিমানেও একই সময়ে দেশে পৌঁছেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জিবুর আগমনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে পোষা প্রাণীর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের প্রাণী পরিবহন সাধারণত কঠোর নিয়মের অধীন, তবে এইবার দ্রুত এবং সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তারেক রহমানের ফিরে আসা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক রাজনৈতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, আর তার পোষা বিড়ালের আগমন ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত মাত্রা যোগ করেছে। জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কেউ কেউ এটিকে মানবিক দিকের সূচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক চিত্রায়নের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে সব দিক থেকে দেখা যায়, এই ঘটনা তারেকের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও মানবিক রঙে উপস্থাপন করেছে।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তারেক রহমান একটি লাল-সবুজ রঙের বাসে চড়ে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে গণসংবর্ধনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়েছেন। এই রুটটি দেশের প্রধান রাস্তাগুলোর একটি, যা দ্রুতগামী গাড়ি ও বাসের জন্য পরিচিত। বাসে চড়ে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন এবং রওনা হওয়ার মুহূর্তে সমাবেশের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট ছিল।
গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী তারেক রহমান সেখানে একটি বৃহৎ সমাবেশের আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। সমাবেশের লক্ষ্য হল বিএনপি ভিত্তিক সমর্থকদের একত্রিত করা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। এই ধরনের সমাবেশ সাধারণত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনার প্রতি কিছু সমালোচনা প্রকাশ পেয়েছে। বিরোধী দলগুলো জিবুর বিশেষ অনুমোদনকে রাজনৈতিক চিত্রায়নের একটি উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করে, যদিও কোনো আইনগত লঙ্ঘন ঘটেনি। তবু সরকারী পক্ষ থেকে জিবুর নিরাপদ প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা বিএনপি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার উপস্থিতি দলীয় সংগঠনের পুনরুজ্জীবন এবং সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করতে পারে। একই সঙ্গে, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তারেকের ভূমিকা পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আসন্ন দিনগুলোতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং সমাবেশের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে। তারেকের দলীয় নেতৃত্বের পুনরায় প্রতিষ্ঠা এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে বিএনপি কীভাবে তার কৌশল গড়ে তুলবে, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।



