যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বুধবার জানিয়েছে যে, ডিসেম্বর ২০ শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকারত্ব ভাতা আবেদন ১০,০০০ কমে মৌসুমী সমন্বয়কৃত ২১৪,০০০-এ নেমে এসেছে। এই সংখ্যা পূর্বাভাসের তুলনায় কম, যেখানে রয়টার্সে সমীক্ষা করা অর্থনীতিবিদরা ২২৪,০০০ দাবি অনুমান করেছিল।
বছরের শেষের ছুটির মৌসুমে ডেটা সমন্বয় জটিল হওয়ায়, শ্রম বিভাগ ক্রিসমাস দিবসের কারণে রিপোর্টটি এক দিন আগে প্রকাশ করেছে। এই সময়কালের মৌসুমী পরিবর্তনগুলো আবেদন সংখ্যার হ্রাসে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি, FWDBONDS-এ প্রধান অর্থনীতিবিদ, উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাই না করে, তবে অর্থনীতি মাঝারি গতিতে অগ্রসর হতে পারে। তার এই মন্তব্য বর্তমান “নো হায়, নো ফায়ার” পরিস্থিতিকে তুলে ধরে, যেখানে নিয়োগের হার স্থবির এবং বরখাস্তের সংখ্যা কম।
বাজারের সামগ্রিক দৃশ্য এখনও শক্তিশালী, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গতি অর্জন করেছে। তবে শ্রম বাজারের গতি প্রায় থেমে আছে; নিয়োগের নতুন সুযোগ সীমিত এবং বেকারত্বের চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক এবং অভিবাসন নীতি শ্রমের চাহিদা ও সরবরাহ উভয়কেই প্রভাবিত করেছে। শুল্কের ফলে আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে উৎপাদন খাতে কর্মী চাহিদা কমে, আর কঠোর অভিবাসন নীতি শ্রমিকের সরবরাহকে সীমাবদ্ধ করে।
এই তথ্যগুলো প্রকাশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে ছুটির কারণে সীমিত ট্রেডিং সেশনে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীরা মূলত এই ডেটাকে স্বল্পমেয়াদী উদ্বেগের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতার সূচক হিসেবে দেখেছেন।
অন্যদিকে, সপ্তাহের শেষের দিকে বেকারত্ব ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর ১৩ শেষ হওয়া সপ্তাহে, প্রাথমিক সপ্তাহের পর ভাতা পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৩৮,০০০ বাড়ে এবং মৌসুমী সমন্বয়কৃত ১.৯২৩ মিলিয়নে পৌঁছায়। এই সংখ্যা নিয়োগের গতি ধীর হওয়ার একটি পরোক্ষ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবশ্যই, ধারাবাহিক দাবির (continued claims) সংখ্যা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমীক্ষা সপ্তাহে সামান্য হ্রাস পেয়েছে, যা সাময়িকভাবে বেকারত্বের চাপ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। তবে মোট ধারাবাহিক দাবি এখনও উচ্চ মাত্রায় রয়েছে, যা শ্রম বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতা নির্দেশ করে।
সেই একই সময়ে, কনফারেন্স বোর্ডের একটি সমীক্ষা প্রকাশ পায়, যেখানে ভোক্তারা শ্রম বাজারের অবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছে। এই মনোভাবের পরিবর্তন অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত, কারণ ভোক্তা আস্থা হ্রাস পেলে ব্যয় কমে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যদিও নতুন বেকারত্ব ভাতা আবেদন হ্রাস পেয়েছে, তবে বেকার ভাতা গ্রহণকারী সংখ্যা বাড়ছে এবং ভোক্তাদের শ্রম বাজারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ হচ্ছে। এই দ্বিমুখী প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারে স্থবিরতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। নিকট ভবিষ্যতে নিয়োগের পুনরুত্থান না হলে, বেকারত্বের হার উচ্চই থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।



