মুম্বাইতে শুটিং শেষের দিকে পৌঁছেছে নতুন কমেডি‑ড্রামা ‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’। এই ছবিতে হাউসফুল‑৫ সিরিজের ১৮ জন প্রধান অভিনেতা পুনরায় একত্রিত হচ্ছেন, যা সাম্প্রতিক হিন্দি সিনেমায় দেখা সবচেয়ে বড় পুনরাবৃত্তি কাস্টের মধ্যে একটি।
কাস্টের মধ্যে আছে একশে কুমার, অভিষেক বাচ্চন, রিতেশ দেশমুখ, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, সোনাম বাজওয়া, নারগিস ফখরি, সঞ্জয় দত্ত, জ্যাকি শ্রফ, নানা পাটেকর, চিত্রাঙ্গদা সিং, ফারদিন খান, চাঙ্কি প্যান্ডে, জনি লেভার, শ্রীয়াস তলপাড়ে, ডিনো মোরিয়া, সাউন্ডার্যা শর্মা, নিকিতিন ধীর এবং ববি দোল। এই নামগুলোই ‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’-এর বিশাল কাস্টের মূল স্তম্ভ গঠন করবে।
শুটিং শেষের মুহূর্তে এক্সক্লুসিভ দৃশ্যগুলো মুম্বাইয়ের বিভিন্ন লোকেশন থেকে ধারণ করা হয়। শেষের শুটিং দিনটি বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়েছে, কারণ পুরো দল একসাথে ক্যামেরার সামনে এসে কাজ শেষের ঘোষণা দিয়েছে।
শুটিং শেষের পর একশে কুমার একটি ব্যাকস্টেজ ভিডিও শেয়ার করে, যেখানে তিনি এবং সহকর্মীরা ক্যামেরার সামনে হাসিখুশি মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায় একশে কুমারকে দু’টি ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে—একটি তরুণ চরিত্রে এবং অন্যটি বয়স্ক চরিত্রে। এই দ্বৈত রূপকল্প ছবির গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিডিওর ক্যাপশনেও একশে কুমার ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’ দলের আকার এত বিশাল যে তিনি আগে কখনো এমন কোনো প্রকল্পে অংশ নেননি। তিনি দর্শকদের জন্য একটি বড় উপহার প্রস্তুত করার কথা বলছেন এবং ২০২৬ সালে ছবিটি থিয়েটারে আসবে বলে জানিয়েছেন।
কাস্টের সদস্যরা শুটিং শেষের পর একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে, পরবর্তী কাজের জন্য উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে কিছুজন ইতিমধ্যে নতুন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন, তবে ‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’ তাদের জন্য একটি বিশেষ সম্মিলিত মাইলফলক।
এই ছবির উৎপাদন ব্যয় এবং কাস্টের আকারের দিক থেকে এটি হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একাধিক সুপারস্টার একসাথে কাজ করা, একই সঙ্গে দু’টি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা, এবং বড় স্কেলের শুটিং লোকেশন ব্যবহার করা—all these factors make the project stand out.
প্রযোজক দল ছবির পোস্টার ও টিজার প্রকাশের পরিকল্পনা করছে, যা শীঘ্রই সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে কিছু ভক্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ তারা এই বিশাল কাস্টের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় আছেন।
‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’ একটি কমেডি-ড্রামা হিসেবে পরিকল্পিত, যেখানে হালকা মেজাজের হাস্যরস এবং গম্ভীর মুহূর্তের মিশ্রণ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত গল্পের বিশদ প্রকাশ করা হয়নি, তাই দর্শকরা কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
শুটিং শেষের সময় একশে কুমার এবং অন্যান্য অভিনেতা একসাথে একটি ছোট পার্টি আয়োজন করেন, যেখানে সবাই ক্যামেরার সামনে হাসি-খুশি মুহূর্ত ভাগ করে নেন। এই মুহূর্তগুলোকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হয়, যা ফ্যানদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবির রিলিজ তারিখ ২০২৬ সালের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়সীমা অনুসারে, পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ, যেমন এডিটিং, ভিএফএক্স এবং সাউন্ড মিক্সিং, এখনই শুরু হয়েছে।
‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’ এর বড় কাস্টের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয় অভিনেতা সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা সমসাময়িক সিনেমার বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। এই দিকটি শিল্পের সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যায়।
ফিল্মের প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ট্রেলার এবং মিউজিক ভিডিও শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। এই মুহূর্তে, ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলার দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সারসংক্ষেপে, ‘ওয়েলকম টু দ্য জঙ্গল’ একটি বিশাল কাস্ট, উচ্চ উৎপাদন মান এবং ২০২৬ সালের রিলিজ লক্ষ্য নিয়ে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। শুটিং শেষের পর দলটি ইতিমধ্যে দর্শকদের জন্য একটি বড় উপহার প্রস্তুত করার সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদেরও আকৃষ্ট করবে।



