যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস আগামী দুই মাসে ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর সামরিক নয়, আর্থিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। তেল রপ্তানির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করা হবে, এবং এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য তেল জাহাজের ‘কোয়ারান্টাইন’ কার্যকর করা হবে। এই পদক্ষেপের পেছনে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে দমিয়ে আন্তর্জাতিক নীতি লক্ষ্য করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের নির্দেশে সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ হবে ভেনেজুয়েলার তেলকে ‘কোয়ারান্টাইন’ করা, অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে আটক করা এবং তাদের চলাচল সীমাবদ্ধ করা। সামরিক বাহিনী সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে এই আর্থিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেবে, যদিও প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্প এখনও রিজার্ভে রাখা হয়েছে।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আদেশে প্রায় ১৫,০০০ সৈন্য, একাধিক বিমানবাহী জাহাজ, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এই সামরিক সমাবেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বড় সংখ্যক সৈন্য ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ভেনেজুয়েলা আক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দাবি করে যে এই পদক্ষেপের পেছনে আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেল ও ‘নারকোটেররিস্ট’ থেকে দেশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য রয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা এই ব্যাখ্যাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।
ডিসেম্বরে ট্রাম্পের আদেশে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাঙ্কারকে সম্পূর্ণভাবে অবরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে দুইটি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে আটক হয়েছে এবং তৃতীয়টি অনুসন্ধানের অধীনে রয়েছে। এই অবরোধের লক্ষ্য তেল প্রবাহ বন্ধ করে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলা।
তেল ভেনেজুয়েলার জন্য জীবনের রক্তস্রোত, তবে ২০০৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তেল ও গ্যাস সেক্টরের উপর নিষেধাজ্ঞা তীব্রতর করা হয়, যা দেশের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
কিছু মিডিয়া সূত্রের মতে, তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদ্ধতি সামরিক সংঘর্ষের তুলনায় উত্তেজনা কমাতে পারে, কারণ এই কাজটি যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, সামরিক বাহিনীর নয়। কোস্ট গার্ড শান্তিকালীন সময়ে একটি বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী জাহাজে প্রবেশের অধিকার রাখে।
কোস্ট গার্ডের এই ভূমিকা তেল জাহাজের আটককে সামরিক কার্যক্রমের তুলনায় কম আক্রমণাত্মক হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নৌবাহিনীর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা অবরোধ করে, তা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধের কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক চাপের নীতি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে। তেল রপ্তানির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু হলে ভেনেজুয়েলার সরকারকে আলোচনায় ফিরে আসতে বাধ্য করা হতে পারে, অথবা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের ফলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমের বিস্তৃতি বা অতিরিক্ত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



