20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশে ফেরার যাত্রা ‘অচিন পাখি’তে

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশে ফেরার যাত্রা ‘অচিন পাখি’তে

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, দীর্ঘ নির্বাসনের পর, লন্ডন থেকে বিজি‑২০২ ফ্লাইটে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। গমন‑গমনের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর, এবং তিনি দেশের স্বাগত জানাতে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনার ‘অচিন পাখি’কে বেছে নেন।

‘অচিন পাখি’ ২৯৮টি আসন সমন্বিত, যার মধ্যে ৩০টি বিজনেস ক্লাস, ২১টি প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ২৪৭টি ইকোনমি সিট রয়েছে। বিমানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০৬ ফুট এবং একবারে প্রায় ১৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করার সক্ষমতা রয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭৮৭‑৯ মডেল জ্বালানি ব্যবহার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর, যা সমমানের অন্যান্য জেটের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে।

যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিমানে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি সিটে উচ্চমানের বিনোদন সিস্টেম, ইন-ফ্লাইট ওয়াইফাই এবং মোবাইল রোমিং সেবা রয়েছে। ক্যাবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে উচ্চ উচ্চতায়ও যাত্রীরা ভূমির মতো স্বাভাবিক চাপ অনুভব করে। এছাড়া, জানালাগুলো সাধারণ বিমানের তুলনায় বড়, যা ভ্রমণকে আরও মনোরম করে তুলেছে।

এই ড্রিমলাইনারের নামকরণ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন সরকার ‘রাজহংস’ নামে ৭৮৭‑৮ ড্রিমলাইনারের উদ্বোধন করছিল, তখনই করা হয়। একই সময়ে সরকার অতিরিক্ত দুটি ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনার কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এক মাসের মধ্যে বোয়িংয়ের সঙ্গে দর-কষাকষি শেষ হয়ে, প্রতিটি জাহাজের চূড়ান্ত মূল্য বাজারমূল্যের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন ডলারের কমে নির্ধারিত হয়। নতুন জাহাজগুলোর নাম রাখা হয় ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘অচিন পাখি’ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯-এ যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বোয়িং ডেলিভারি সেন্টার থেকে ঢাকা পথে রওনা হয়। ২৪ ডিসেম্বর রাতের দিকে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায় এবং ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। আজকের এই ফিরে আসা, সেই একই জাহাজের ডানায় তারেক রহমানের পরিবারকে দেশের মাটিতে পা রাখতে সহায়তা করেছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এই ভ্রমণ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময়ের পর দেশে ফিরে তিনি জাতীয় পতাকাবাহী আধুনিক বিমান ব্যবহার করে দেশের গর্ব ও স্বার্থকে তুলে ধরেছেন। এ ধরনের উচ্চপ্রোফাইল ভ্রমণ সরকারী ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বিমান শিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার সংকেত দেয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই নতুন জাহাজের ব্যবহার দেশের এয়ারলাইন সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও উন্নত ক্যাবিন সুবিধা আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং পর্যটন শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের পরিবারসহ এই উড়ানটি নিরাপদে সম্পন্ন হওয়ায় বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা বাড়ছে। বিমানটি লন্ডন থেকে ঢাকা পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়নি, যা পরিচালনা দলের দক্ষতা ও জাহাজের নির্ভরযোগ্যতা নির্দেশ করে।

বিএনপির প্রাক্তন বৈমানিক কর্নেল (অব.) সোহেল রানা স্ট্রিমের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনারের আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্য দেশের এয়ারলাইন শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের জাহাজের ব্যবহার দেশের গ্লোবাল এয়ার ট্রান্সপোর্টে অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

ভবিষ্যতে, সরকার ও বেসামরিক সংস্থাগুলি এই ধরনের আধুনিক জাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রুটের বিস্তৃতি পরিকল্পনা করতে পারে। ‘অচিন পাখি’র সফল উদ্বোধন ও ব্যবহার এ ধরনের নীতির বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং জাতীয় গর্ব ও বিমান শিল্পের অগ্রগতির প্রতীক। ‘অচিন পাখি’র আধুনিক সুবিধা, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং নিরাপদ পরিচালনা দেশের এয়ারলাইন সেবার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments