19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামাউশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ফেসবুক ব্যবহার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে

মাউশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ফেসবুক ব্যবহার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে থাকা সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের জন্য ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্টিং ও ব্যবহার সংক্রান্ত নতুন সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রেরিত জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতি ও ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের লঙ্ঘনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০১৯ সালের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ (পরিমার্জিত সংস্করণ) এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ইতিমধ্যে কার্যকর। এই নীতিমালা অনুসারে কোনো উসকানিমূলক পোস্ট, গুজব ছড়ানো বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হ্রাসকারী কোনো কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে যে, এই বিধি লঙ্ঘন করা শুধুমাত্র পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হানিকর এবং বিদ্যমান আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের অধীনে কোনো ব্যক্তি সাইবার অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।

মাউশি জানিয়েছে যে, এখন থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ফেসবুক কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালু করা হবে। কোনো লঙ্ঘনকারীকে বিভাগীয় শাস্তি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি করা হবে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের অধীনে ডিজিটাল অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন নির্দেশনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করতে হবে। দলটি ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক পোস্ট চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে দায়িত্বশীল হবে। এছাড়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা মেনে চলতে না পারলে, শাস্তি হিসেবে পদত্যাগ, বরখাস্ত বা আইনি দায়বদ্ধতা আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আদালত গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাই, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উচিত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে পোস্ট করার আগে বিষয়বস্তু যাচাই করা এবং কোনো গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য শেয়ার না করা।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ডিজিটাল পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল যুগে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারকারীতে রূপান্তরিত করার জন্য এই ধরনের কঠোর নীতি প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে।

অবশেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন, অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন এবং কোনো সন্দেহজনক পোস্ট দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানিয়ে দিন। এইভাবে, সবাই মিলে সাইবার নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments