ধর্মা প্রোডাকশন হোমবাউন্ড ছবির ওপর চাঁগৈওয়ালা নামের লেখিকার প্লেজারিজম দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অক্টোবর মাসে চাঁগৈওয়ালা তার রচনার সঙ্গে ছবির দ্বিতীয় ভাগের দৃশ্য, সংলাপ, বর্ণনাক্রম এবং ঘটনাবলীর সাদৃশ্যের ভিত্তিতে আইনি নোটিশ পাঠায়। তিনি দাবি করেন যে হোমবাউন্ড শুধুমাত্র শিরোনামই নয়, মূল সৃজনশীল উপাদানেও তার বইয়ের সঙ্গে সমানতা রাখে এবং তিনি নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণের জন্য আইনি ব্যবস্থা চান।
ধর্মা প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে মিড-ডে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছবির ওপর আরোপিত কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অপ্রমাণিত। কোম্পানি জোর দিয়ে জানিয়েছে যে হোমবাউন্ড নিউ ইয়র্ক টাইমসের বশরাত পীরের একটি প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি লাইসেন্সকৃত অভিযোজন এবং সব প্রয়োজনীয় অধিকার আইনগতভাবে অর্জিত হয়েছে। এছাড়া, ছবির ক্রেডিটে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ধর্মা প্রোডাকশনকে মিডিয়া রিপোর্টের মাধ্যমে বোম্বে হাই কোর্টে পূর্ব-সুয়াইড মধ্যস্থতার খবর জানানো হয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। কোম্পানি এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
হোমবাউন্ডের পরিচালক নীরজ ঘায়ওয়ান, প্রধান চরিত্রে ইশান খাট্টের, বিশাল জেথওয়া এবং জানভি কাপুরকে নিয়ে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় গৃহহীন শ্রমিকদের অভিবাসনকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছে। ছবিটি সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক সংগ্রামের চিত্রায়ণ করে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন পুরস্কার অনুষ্ঠানে নাম তালিকায় রয়েছে। তবে এই কপিরাইট বিরোধ ছবির আলোচনায় নতুন একটি আইনি মাত্রা যোগ করেছে।
চাঁগৈওয়ালার আইনি নোটিশে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে হোমবাউন্ডের দৃশ্য, সংলাপ এবং বর্ণনাক্রমের নির্দিষ্ট অংশের সঙ্গে তার বইয়ের সাদৃশ্যের দাবি রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে ছবির দ্বিতীয় ভাগে তার রচনার মূল কাঠামো পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা তার বৌদ্ধিক সম্পত্তির লঙ্ঘন বলে তিনি বিবেচনা করেন। এই দাবির ভিত্তিতে তিনি নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে ধরেছেন।
ধর্মা প্রোডাকশন এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং জানায় যে হোমবাউন্ডের সব অধিকার যথাযথভাবে অর্জিত হয়েছে। কোম্পানি উল্লেখ করে যে ছবির জন্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রবন্ধের অধিকার ক্রয় করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে। এছাড়া, ছবির ক্রেডিটে বশরাত পীরের নাম উল্লেখ করে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে ধর্মা প্রোডাকশন ইতিমধ্যে চাঁগৈওয়ালার নোটিশের উত্তর দিয়েছে এবং তার আইনজীবী দল থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা প্রস্তাব বা আদালতে মামলা দায়েরের নোটিশ পাওয়া যায়নি, তবে তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
হোমবাউন্ডের মুক্তি এবং তার সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি এই কপিরাইট বিরোধ চলচ্চিত্রের প্রচার ও বিতরণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। চলচ্চিত্রের সমর্থকরা দাবি করেন যে ছবিটি কোভিড-১৯ সময়ের অভিবাসী শ্রমিকদের কষ্টকে যথাযথভাবে তুলে ধরেছে এবং তা শিল্পের দায়িত্বপূর্ণ কাজের উদাহরণ। অন্যদিকে, লেখিকার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে তার রচনার সঙ্গে ছবির সাদৃশ্য তাকে তার বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
বিবাদটি এখনও সমাধান হয়নি এবং উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে। ধর্মা প্রোডাকশন আদালতে তার অধিকার রক্ষার জন্য প্রস্তুত, আর চাঁগৈওয়ালা তার বইয়ের সুরক্ষার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি চলচ্চিত্র শিল্পে বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের জন্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
চলচ্চিত্রের শিল্পিক দিক, সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা এবং আইনি দিকের এই সমন্বয় হোমবাউন্ডকে শুধু একটি সৃজনশীল কাজ নয়, বরং একটি আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। উভয় পক্ষের দাবির ভিত্তিতে আদালতে কী রায় দেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এই ঘটনা চলচ্চিত্রের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষার মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার গুরুত্বকে পুনরায় উন্মোচন করেছে।
ধর্মা প্রোডাকশন এবং চাঁগৈওয়ালার মধ্যে চলমান আইনি প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহে কী রকম অগ্রগতি দেখাবে তা শিল্পের নজরে থাকবে। একই সঙ্গে, হোমবাউন্ডের সাফল্য ও পুরস্কার সম্ভাবনা এই বিরোধের পরেও অব্যাহত থাকবে কি না, তা দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা।



