বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিপি) চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের এক দিন আগে প্রত্যাহার পত্র পাওয়া গেছে। এই পদক্ষেপটি ১২তম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) শুরুর আগে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাহার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিডিয়ার প্রচারাভিযানের ফলে স্পনসর খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটি টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাচ্ছে। পত্রটি প্রাপ্তির পর অর্ধ ঘন্টার মধ্যে বিসিপি এই বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিসিপি পরিচালক ও বিপিএল শাসন সংস্থার সেক্রেটারি ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, “আমরা ইতিমধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজটি গ্রহণ করেছি এবং বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত কাজগুলো ত্বরান্বিত করা হবে।
চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজের অধিকার মূলত ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছিল, যা বাংলাদেশের একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ফ্র্যাঞ্চাইজের অংশগ্রহণ ফি দুই কোটি টাকা সময়মতো জমা হলেও, দশ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান বহুবার বিলম্বিত হয়।
ডিসেম্বর ৯ তারিখে বিসিপি একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানায় যে, চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছে এবং গ্যারান্টি রাশি প্রমাণিত আর্থিক যন্ত্রের মাধ্যমে জমা দিয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজের আর্থিক দিক থেকে কিছুটা স্বচ্ছতা এসেছে, তবে অন্যান্য সমস্যার সমাধান এখনো বাকি।
দলটির আগামীকাল নোয়াখালি এক্সপ্রেসের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচ রয়েছে, তবে এখনো কোনো বিদেশি খেলোয়াড় দলকে যোগদান করেনি। কোচিং স্টাফের পরিবর্তনও একাধিকবার ঘটেছে, যা দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে।
বহু বিদেশি খেলোয়াড় শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করেছেন, এবং দলটি খেলোয়াড়দের ২৫ শতাংশ বেতন প্রদান করার নিয়মও পূরণ করতে পারেনি, যা প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজের টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মেনে চলা আবশ্যক। এই আর্থিক ঘাটতি এবং খেলোয়াড়দের প্রত্যাহার দলটির পারফরম্যান্সে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিসিপি এখন ফ্র্যাঞ্চাইজের পরিচালনা, কোচিং ও খেলোয়াড়ের বেতন সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য কাজ করছে, যাতে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়।
বিপিএল শিডিউল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচ নোয়াখালি এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে হবে, এবং এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের শুরুর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। দলটি এই ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে হবে, যদিও বিদেশি খেলোয়াড়ের অভাব এবং আর্থিক সমস্যার কারণে প্রস্তুতি সীমিত হতে পারে।
বিসিপি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। টুর্নামেন্টের সফলতা ও দর্শকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে।



