বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানা অধীনে হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এক যুবককে স্থানীয় মানুষ পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহত অমৃত মণ্ডল, যাকে সম্রাট নামে পরিচিত, ৩০ বছর বয়সী এবং হোসেনডাঙ্গার অক্ষয় মণ্ডলের পুত্র। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইটি অস্ত্রসহ আরেকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে জনসাধারণের হাতে হস্তান্তর করে।
অমৃত মণ্ডলকে স্থানীয়রা “সম্রাট বাহিনীর” প্রধান বলে চিহ্নিত করেছে। এই গোষ্ঠীটি তার নামে গঠন করা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত, যা দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদাবাজি, হিংসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল। সম্রাটের নামে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত।
কয়েক বছর আগে সম্রাট ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তবে সম্প্রতি তিনি আবার এলাকায় ফিরে এসে শহীদ শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চাঁদা দাবি করেন। শহীদ শেখ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে সম্রাট তার সহচরদের সঙ্গে বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করে।
বিকেলবেলায় সম্রাট ও তার দুইজন সহযোগী শহীদ শেখের বাড়িতে প্রবেশের সময় বাড়ির লোকজন “ডাকাত ডাকাত” চিৎকার করে সতর্ক করে। এই চিৎকারের ফলে আশেপাশের গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্রাটকে আটক করে।
অটক করা সম্রাটকে গ্রামবাসীরা হাতে পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায়। মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি ইতিমধ্যে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ছিলেন এবং স্থানীয়দের হাতে হিংস্রভাবে হিংসা করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মৃতদেহের সঙ্গে সম্রাটের সহচর সেলিমকে গ্রেফতার করে দুইটি অস্ত্র—একটি পিস্তল এবং একটি একশুটার গন—জব্দ করে। সেলিমকে পাংশা মডেল থানা থেকে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে সম্রাটের গোষ্ঠী দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে চলেছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল অপরাধের প্রকৃতি ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিক তদন্তে সম্রাটের গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃত সেলিমের সঙ্গে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালু রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাটির শিকারের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, আইনের শাসন বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলাটি আদালতে দাখিল করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবে।
অপরাধের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের ধরন এবং গোষ্ঠীর গঠন সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পুলিশ কর্তৃক দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উভয়ই অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



