লেখক অণন্দ বক্সির পুত্র রকেশ অণন্দ বক্সি, ২৪ ডিসেম্বর ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রকাশিত পোস্টে, ‘তু মেরি মেইন টেরা মেইন টেরা তু মেরি’ ছবির রিমিক্সে ‘সাত সমুদ্র পার’ গানের সহ-লিরিকিস্ট হিসেবে কারন নওয়ানির নাম যুক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মূল গানের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার পিতার নামই একমাত্র থাকা উচিত।
১৯৯২ সালের হিট চলচ্চিত্র ‘বিশ্বত্মা’ তে প্রথম প্রকাশিত ‘সাত সমুদ্র পার’ গানের সুর রচনা করেন বিজু শাহ এবং কথার রচনা করেন অণন্দ বক্সি। গানের সুরেলা সুর ও গভীর লিরিক্স তখন থেকে বহু প্রজন্মের প্রিয় হয়ে আছে।
কর্তিক আর্যন ও অনন্যা পান্ডের নতুন ছবিতে এই গানের আধুনিক রিমিক্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছবির শিরোনাম ‘তু মেরি মেইন টেরা মেইন টেরা তু মেরি’ এবং এটি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে থিয়েটারে মুক্তি পাবে।
রিমিক্সের ক্রেডিট তালিকায় মূল গানের লেখক অণন্দ বক্সি পাশাপাশি নতুন লিরিক্সে যুক্ত কারন নওয়ানির নামও সহ-লিরিকিস্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নওয়ানি গানে মাত্র এক-দুই লাইন সংযোজনের দাবি করেন, যা রকেশের মতে যথেষ্ট নয়।
রকেশের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এক বা দুই লাইন যোগ করার জন্য কোনো লেখককে সহ-লিরিকিস্টের মর্যাদা দেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সঙ্গীতের ক্ষেত্রে মূল ও অতিরিক্ত অংশের জন্য আলাদা ক্রেডিট থাকে, তেমনি লিরিক্সের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা দরকার।
তিনি আরও যুক্তি দেন, মূল গানের সুর ও কথার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, আর অতিরিক্ত লাইনগুলো যদি মূলের আত্মা থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা গানের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে। রকেশের মতে, নতুন যোগ করা লাইনগুলো তার পিতার মূল রচনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
রকেশ পোস্টে সঙ্গীত লেবেল সারেগামা মিউজিক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পীকে ট্যাগ করে, শিল্প জগতে ক্রেডিটিং পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে লিরিক্সের স্বীকৃতি যথাযথ না হলে মূল লেখকের অবদান হ্রাস পায়।
রিমিক্সটি প্রকাশের পর দর্শক ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু ভক্ত গানের আধুনিক রূপকে পুরনো সুরের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা করেন, আবার অন্যরা নতুন সুরের প্রশংসা করেন। তবে অধিকাংশ মন্তব্যে মূল গানের সোনালী স্মৃতি ও নতুন সংস্করণের পার্থক্য উভয়ই উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিল্মের মুক্তির তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ নির্ধারিত, এবং রিমিক্সটি ছবির প্রোমোশনাল ট্রেইলারে ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির প্রচারাভিযান চলাকালীন এই গানের রিমিক্সের বিষয়টি মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে।
এই বিতর্কের মাধ্যমে লিরিক্সের স্বীকৃতি ও ক্রেডিটিং পদ্ধতি নিয়ে শিল্প জগতে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। রকেশ অণন্দ বক্সি দাবি করেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, রিমিক্সে সহ-লিরিকিস্টের ক্রেডিট যুক্ত হওয়া নিয়ে রকেশ অণন্দ বক্সির প্রকাশ্য বিরোধ, মূল গানের ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং শিল্পের ক্রেডিটিং সংস্কারের আহ্বানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই বিষয়টি শিল্পের স্বচ্ছতা ও সৃষ্টিকর্তাদের অধিকার রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।



