22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে হিন্দু মূর্তি ধ্বংসে ভারতের নিন্দা ও কূটনৈতিক আহ্বান

কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে হিন্দু মূর্তি ধ্বংসে ভারতের নিন্দা ও কূটনৈতিক আহ্বান

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্তে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর মূর্তি ভাঙা ঘটনার পর ভারত সরকার ঘটনাটিকে ‘অস্মরণীয় কাজ’ বলে নিন্দা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। মূর্তিটি ২০১৪ সালে নির্মিত হয় এবং থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে কম্বোডিয়ার আন সেস অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, এই কাজটি বিশ্বব্যাপী বিষ্ণু ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং এমন ঘটনা কোনোভাবে সহ্য করা যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মের অনুসারীরা এই অঞ্চলে একত্রে পূজা করেন এবং মূর্তিটি বহু সংস্কৃতির ভাগ করা ঐতিহ্যের প্রতীক।

কম্বোডিয়ার প্রিয়া বিহার প্রদেশের মুখপাত্র লিম চানপানহা জানান, মূর্তিটি থাইল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তিনি থাইল্যান্ডকে এই কাজের জন্য দায়ী করে অভিযোগ তুলে, দ্রুত বিষয়টি সমাধানের জন্য দু’দেশের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মূর্তি ধ্বংসের বিষয়ে কোনো সরকারি মন্তব্য শোনা যায়নি। তবে দুই দেশের সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘর্ষের পটভূমিতে এই ঘটনা অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

সীমান্তে সংঘাতের সূত্রপাত জুলাই মাসে হয়, যখন দু’দেশের সৈন্যদের মধ্যে প্রথম গুলিবর্ষণ ঘটে। পাঁচ দিনের লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে আবার এমাসে পুনরায় সংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়।

এ পর্যন্ত সংঘাতে ৪০-এরও বেশি প্রাণ হারিয়ে গেছে এবং প্রায় দশ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই মানবিক সংকটের মধ্যে দু’দেশের সরকার প্রথম দফা আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে একটি টেবিল নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে, যাতে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করা যায়।

ভারত এই আলোচনাকে সমর্থন করে এবং উভয় পক্ষকে কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায়। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আরও কোনো প্রাণহানি, সম্পত্তি ও ঐতিহ্যের ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষকে সংলাপ ও কূটনীতির উপর ভরসা রাখতে হবে।”

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংসের ঘটনা কেবল স্থানীয় উত্তেজনা বাড়াবে না, বরং বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে মধ্যস্থতা করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে, ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোও শান্তি বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে প্রস্তুত।

এই প্রেক্ষাপটে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয়ই ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও জাতীয় গর্বের মিশ্রণে জটিল অবস্থায় রয়েছে। মূর্তিটি ধ্বংসের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস আরও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সীমান্তে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন যে পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে শর্তাবলি নির্ধারিত হবে এবং যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর হবে।

ভারত এই প্রক্রিয়ায় শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করতে ইচ্ছুক এবং উভয় দেশের সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে উৎসাহিত করছে। শেষ পর্যন্ত, ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংসের ঘটনা কেবল একটি স্থানীয় সমস্যাই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments