বোলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন, যাকে শিল্পের প্রথম সারির নামের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়, তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। এক সময় তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল, তবে পর্দার চেহারার অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণে তাকে পুনরায় বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত তার পেশাগত যাত্রায় একটি কঠিন মোড় তৈরি করে।
প্রতিষ্ঠানিক কাস্টিং প্রক্রিয়ায় পরিচালক ও প্রযোজকরা কৃতির চেহারাকে অতিরিক্ত নিখুঁত বলে বিবেচনা করেন, যা চরিত্রের বাস্তবতা ও মানবিক ত্রুটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে তারা সিদ্ধান্ত নেন। ফলে, তিনি সেই ভূমিকাটি থেকে বাদ পড়েন এবং অন্য কোনো প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতে হয়। এই অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও, পরবর্তীতে তার দৃঢ়সংকল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
কৃতি শ্যানন পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তার ক্যারিয়ারের গোপন কষ্টের কথা শেয়ার করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, প্রথমদিকে কাজের প্রত্যাখ্যান ও সমালোচনার মুখে তিনি হতাশা ও কাঁদার মুহূর্তে ভুগেছিলেন। এমন সময়ে কিছু লোক তাকে ‘বেশি সুন্দর’ বলে সমালোচনা করতেন, যা তার আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করত। তবে তিনি এই মন্তব্যগুলোকে নিজের উন্নতির প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেন।
তার মতে, পর্দায় বাস্তবিকতা ফুটিয়ে তুলতে অভিনেতার মধ্যে কিছু অসম্পূর্ণতা থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত নিখুঁত চেহারা কখনও কখনও চরিত্রের মানবিক দিককে ঢেকে দেয়, ফলে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন কঠিন হয়ে যায়। তাই, তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিল্পে সাফল্য অর্জনের জন্য আত্মবিশ্লেষণ ও স্ব-সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
কৃতির এই কঠিন সময়ে কিছু শিল্পপরিচালক ও সহকর্মী তার সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখেন। তাদের সমর্থন ও উৎসাহ তাকে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি নতুন প্রকল্পে হাত বাড়িয়ে দেন এবং ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান মজবুত করেন।
কৃতি শ্যাননের জন্ম দিল্লিতে, যেখানে তিনি প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করতেন। তবে শৈশব থেকেই তার মনের ভেতরে বড় কিছু করার স্বপ্ন জাগ্রত ছিল। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নাট্যশালায় অংশগ্রহণ করে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলেন, যা শেষমেশ তাকে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের পথ দেখায়।
প্রথমে প্রত্যাখ্যানের পরেও তিনি ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট ভূমিকা গ্রহণ করেন, যা ধীরে ধীরে তাকে বড় প্রকল্পের দরজা খুলে দেয়। তার পারফরম্যান্সের গুণগত মান ও পেশাদারিত্বের কারণে তিনি দ্রুতই বোলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থান পেয়ে যান। আজ তিনি বহু হিট চলচ্চিত্রে কাজ করছেন এবং তার নামটি বক্স অফিসের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত।
কৃতির গল্পটি নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সৌন্দর্য বা বাহ্যিক চেহারা একা সাফল্যের গ্যারান্টি নয়; ধারাবাহিক পরিশ্রম, আত্মবিশ্লেষণ এবং সমর্থনশীল মানুষের উপস্থিতি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার যাত্রা থেকে শিখতে হবে যে, প্রত্যাখ্যানকে আত্মবিশ্বাসের পতন নয়, বরং আত্মউন্নয়নের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।



