২৫ ডিসেম্বর, ভোরের প্রায় ছয়টা ত্রিশ মিনিটে ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের বালুয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ টহলরত দুটি গাড়ি একসঙ্গে উল্টে যায়। ঘটনাটি একটি কাভার্ড ভ্যানের দ্রুতগতির ধাক্কায় ঘটেছে। এতে হাইওয়ে পুলিশের এক সার্জেন্ট এবং দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় টহল গাড়িগুলো মহাসড়কের ডান পাশে, ঢাকা-মুখী লেনে অবস্থান করছিল। ভ্যানটি গতি বাড়িয়ে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িগুলোর দিকে তীব্রভাবে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা পাওয়ার পর উভয় টহল গাড়ি উল্টে মহাসড়কের ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন পথচারী তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি লক্ষ্য করেন।
ধাক্কা পাওয়ার ফলে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আহসান হাবিব এবং কনস্টেবল নয়ন আহত হন। পাশাপাশি থানা পুলিশের একটি সদস্যও আঘাত পেয়ে গাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। আহত কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তারা আহতদের নিরাপদে তুলে নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তৎকালীন তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে হাসপাতালের প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে তারা গুরুতর নয় এমন আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে। আহত কর্মকর্তাদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত দুজনকে স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে জড়িত বিষয়গুলো তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। ভ্যানের মালিকানা ও চালকের লাইসেন্সের অবস্থা তদন্তের আওতায় রয়েছে। এছাড়া ভ্যানের রুট ও গতি রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হবে।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা-মুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য গতি সীমিত করা হয় এবং যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত গাড়ি পাঠায় এবং বিকল্প রুটের নির্দেশনা দেয়। ট্র্যাফিক স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় সিগন্যাল ও নিরাপত্তা কর্মী স্থাপন করা হয়।
গাজারিয়া থানার উপপরিদর্শক রুবেল সিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যানের অপ্রত্যাশিত ধাক্কা টহল গাড়িগুলোর উল্টে যাওয়ার প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট ও কনস্টেবল আহত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করেন।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, দুর্ঘটনার পর ট্র্যাফিক স্বাভাবিক করতে পুলিশ দ্রুত কাজ করছে। তিনি যোগ করেন, ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ট্র্যাফিক নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ভ্যানের গতি সীমা অতিক্রম করা এবং হঠাৎ ব্রেক না করা প্রধান কারণ হতে পারে। এছাড়া টহল গাড়িগুলোর অবস্থান ও সিগন্যালের যথাযথ ব্যবহারও তদন্তের বিষয়। রেকর্ডেড ভিডিও ও গাড়ির ডেটা রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত



