22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকিম জং‑উন যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তিকে ‘আক্রমণাত্মক কাজ’ বলে নিন্দা

কিম জং‑উন যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তিকে ‘আক্রমণাত্মক কাজ’ বলে নিন্দা

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং‑উন বুধবার দেশের সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তিকে কোরিয়ান উপদ্বীপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি এই চুক্তিকে ‘আক্রমণাত্মক কাজ’ বলে বর্ণনা করে, পিয়ংইয়াংয়ের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

কিমের মতে, এই চুক্তি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে এবং তা মোকাবিলার জন্য দেশের নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্রায়ন দ্রুততর করা জরুরি। তিনি বিশেষ করে ‘৮,৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক‑শক্তি চালিত কৌশলগত গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন’ নির্মাণের কাজকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনের সময় কিম একটি উচ্চ-উচ্চতার দীর্ঘ-পরিসীমা এন্টি‑এয়ার মিসাইলের পরীক্ষারও তদারকি করেন। মিসাইলটি জাপান সাগরে (কোরিয়ায় ‘পূর্ব সমুদ্র’ নামে পরিচিত) উৎক্ষেপণ করে ২০০ কিলোমিটার (প্রায় ১২৪ মাইল) উচ্চতায় একটি নকল লক্ষ্যকে সফলভাবে ধ্বংস করে। এই সফল পরীক্ষা KCNA সংবাদ সংস্থা অনুযায়ী দেশের রকেট প্রযুক্তির অগ্রগতি নির্দেশ করে।

দক্ষিণ কোরিয়া একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘স্বতন্ত্র’ চুক্তি অনুসন্ধান করছে, যার মাধ্যমে পারমাণবিক‑শক্তি চালিত সাবমেরিনের প্রযুক্তি অর্জন করা হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আইন সামরিক ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক উপাদানের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে এক্সেম্পশন প্রদান করা সম্ভব বলে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সঙ‑লাক উল্লেখ করেন। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্কো রুবিও ও শক্তি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমজাতীয় চুক্তি অনুসরণ করছে এবং নিজের পারমাণবিক‑শক্তি চালিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা চালু করেছে। উই সঙ‑লাকের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনাগুলি আগামী বছর শুরুর দিকে শুরু হবে। এই আন্তর্জাতিক প্রবণতা উত্তর কোরিয়ার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও কিম জং‑উনকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুতিনের এই বার্তা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

কিমের এই মন্তব্য ও কর্মসূচি উত্তর কোরিয়ার সামরিক নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় স্পষ্ট করে। পারমাণবিক সাবমেরিন ও উচ্চ‑উচ্চতার মিসাইলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে চায়। দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক‑শক্তি চালিত সাবমেরিন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এক্সেম্পশন উভয়ই কোরিয়ান উপদ্বীপের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে জটিল করে তুলবে। ভবিষ্যতে কোরিয়ান উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বৃদ্ধি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের নীতি, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকীকরণ একসাথে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করবে। পরবর্তী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তির চূড়ান্ত রূপ, সম্ভাব্য এক্সেম্পশন অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক পরীক্ষার ফলাফল কোরিয়ান উপদ্বীপের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments