পাকিস্তানের অভিজ্ঞ দৌড়বিদ মোহাম্মদ আমির, ৩৩ বছর বয়সী, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL)‑এর সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে পুরো মৌসুমের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এটি তার পঞ্চম BPL উপস্থিতি, এবং তিনি টুর্নামেন্টের প্রতি গভীর আকর্ষণ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ বছর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৫ সালে আমির প্রথমবার BPL‑এ ফিরে আসেন। সেই সময়ে তিনি এই লিগের মাধ্যমে পুনরায় শীর্ষে ওঠার সুযোগ পান এবং পাকিস্তান জাতীয় দলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। নিষেধাজ্ঞা শেষের পরের প্রথম আন্তর্জাতিক লিগ হিসেবে BPL তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি এবং বিদেশি দায়িত্বের কারণে আমির নিয়মিতভাবে BPL‑এ অংশ নিতে পারেননি। তবে এই বছর তিনি সিলেটের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে পুরো মৌসুমের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে ফিরে এসেছেন। দলটি তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগের প্রতীক।
সাক্ষাৎকারে আমির BPL‑এর প্রতি তার উন্মাদনা এবং টুর্নামেন্টের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, BPL‑এর অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা দিন দিন উন্নত হচ্ছে, যদিও এই মৌসুমে দলসংখ্যা কিছুটা কম। এই উন্নতি শুধু ক্রিকেটের মান বাড়াচ্ছে না, বাংলাদেশী ভক্তদের জন্যও আনন্দের উৎস।
আমির BPL‑কে তার জন্য এক ধরনের ‘লাকি চার্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষের পর যখন তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার লড়াইয়ে ছিলেন, তখন BPL‑ই প্রথম লিগ ছিল যেখানে তিনি পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ পেয়েছিলেন।
বিপিএল‑এর গুণগত মানের উন্নতি আন্তর্জাতিক তারকারা আকৃষ্ট করছে। অতীতে AB ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইল, ম্যাকক্যালাম, অ্যালেক্স হেলস, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড, শাহিদ আফ্রিদি এবং স্টিভ স্মিথের মতো বড় নামগুলো এই লিগে অংশ নিয়েছেন। এই উপস্থিতি লিগের প্রতিযোগিতামূলক মানকে উচ্চ স্তরে নিয়ে গেছে।
আমিরের মতে, BPL তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের লিগ, কারণ ২০০৯ সালের আগে তিনি কোনো আন্তর্জাতিক লিগে অংশ নেননি। BPL‑ই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক লিগ, যা তাকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তাই এই লিগের প্রতি তার অনুভূতি বিশেষ এবং গভীর।
২০২৩ সালে তিনি সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে শেষবার BPL‑এ খেলেছিলেন। সেই সময়ের পারফরম্যান্স এবং দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক তাকে সিলেটের ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। এখন তিনি একই শহরের আরেকটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান।
সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে তার চুক্তি নিয়ে আমির দলের গঠন এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, দলটি শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং ইউনিট নিয়ে গঠিত এবং মৌসুমের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। দলের সমন্বয় এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বিপিএল‑এর এই মৌসুমে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করবে এবং প্রতিটি দল দুইবার করে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। লিগের সূচনা নভেম্বরের শেষের দিকে নির্ধারিত, এবং শেষ ম্যাচ জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। আমিরের উপস্থিতি সিলেট টাইটান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তার অভিজ্ঞতা এবং গতিশীল বোলিং শৈলী দলের জন্য বড় সম্পদ।
সিলেট টাইটান্সের কোচিং স্টাফও আমিরের সঙ্গে কাজ করার জন্য উচ্ছ্বসিত। তিনি দলের তরুণ বোলারদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং মাঠে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, মোহাম্মদ আমিরের সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে চুক্তি BPL‑এর আন্তর্জাতিক আকর্ষণ বাড়াচ্ছে এবং তার নিজের ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। টুর্নামেন্টের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক তারকারা এবং স্থানীয় প্রতিভার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল ক্রিকেটের দৃশ্য তৈরি করবে।



