20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবেথলেহেমে বড়দিনের উদযাপন পুনরায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা চলমান

বেথলেহেমে বড়দিনের উদযাপন পুনরায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা চলমান

বেথলেহেমের ম্যানজার স্কোয়ারে ক্রিসমাস ইভে হাজারো মানুষ একত্রিত হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর প্রথম জনসাধারণিক উদযাপন। শহরটি দুই বছর ধরে গাজা যুদ্ধের শিকারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল বা সীমিত করেছিল। তবে এখন পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী গাছের চারপাশে জড়ো হয়ে “আলোয় ভরা বড়দিন”ের আহ্বানকে স্বাগত জানাচ্ছে।

স্কোয়ারে বিশাল ক্রিসমাস গাছ পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে, যা যুদ্ধকালে ব্যবহৃত ন্যাটিভিটি প্রদর্শনীর জায়গা নেয়। পূর্বে গাছের নিচে বেবি জিসাসকে ধ্বংসাবশেষ ও বারের তারের মধ্যে দেখানো হতো, যা গাজার ধ্বংসাবশেষের প্রতীক হিসেবে কাজ করত। নতুন গাছটি শান্তি ও পুনরুত্থানের বার্তা বহন করে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য দৃশ্যমান আকর্ষণ।

হোলি ল্যান্ডের সর্বোচ্চ ক্যাথলিক নেতা কার্ডিনাল পিয়ারবাটিস্তা পিজ্জাবাল্লা, জেরুজালেম থেকে ঐতিহ্যবাহী ক্রিসমাস মার্চে পৌঁছেছেন। তিনি “আলোয় ভরা বড়দিন”ের আহ্বান জানিয়ে শান্তি ও মানবিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার উপস্থিতি স্থানীয় ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর থেকে স্কাউট ব্যান্ডগুলো বাগপাইপ বাজিয়ে, তার্টান ও ফিলিস্তিনি পতাকা দিয়ে সজ্জিত হয়ে বেথলেহেমের রাস্তায় প্যারেড করেছে। এই সঙ্গীত ও রঙের মিশ্রণ শহরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

গাজা যুদ্ধের সূচনার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে হাজারো ফিলিস্তিনি গ্রেফতার এবং চলাচলের উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে। এই সামরিক উপস্থিতি শহরের সড়ক বন্ধ, চেকপয়েন্টে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং স্থানীয় ব্যবসার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

পর্যটন খাত, যা বেথলেহেমের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি, এখন গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, বাড়তি সামরিক উপস্থিতি ও চলাচল সীমাবদ্ধতা বিদেশি পর্যটকদের আসা কঠিন করে তুলেছে, ফলে শহরের হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো শূন্যে পরিণত হয়েছে।

বেথলেহেমের মেয়র মাহের নিকোলা কানাওয়াতি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের ফলে বেকারত্বের হার ১৪ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশে বেড়েছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের ফলে প্রায় চার হাজার বাসিন্দা কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য শহর ত্যাগ করে অন্য অঞ্চলে গিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক স্তরে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সংযুক্ত জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সংকটের সমাধানের জন্য তীব্র চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধ এবং গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনও নিরাপত্তা উদ্বেগের ওপর ভিত্তি করে সমর্থন বজায় রেখেছে।

অক্টোবর মাসে গাজায় অস্থায়ী সশস্ত্র বিরতির পরেও, ইসরায়েলি বাহিনীর সীমান্তে আক্রমণ ও গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি বেথলেহেমের বড়দিনের উদযাপনকে একটি রাজনৈতিক ও মানবিক দ্বৈত অর্থে রূপান্তরিত করেছে—একদিকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ, অন্যদিকে চলমান সামরিক সংঘর্ষের বাস্তবতা। ভবিষ্যতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গাজা ও পশ্চিম তীরে স্থায়ী শান্তি চুক্তি ও মানবিক সহায়তার কার্যকরী বাস্তবায়নকে মূল মাইলস্টোন হিসেবে দেখছেন, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments