বিনি দ্য পুহের প্রথম প্রকাশনা ২৪ ডিসেম্বর ১৯২৫ তারিখে লন্ডন ইভনিং নিউজের “দ্য রং সোর্ট অব বীজ” শিরোনামের ছোট গল্পে প্রকাশিত হয়। এই দিনটি ক্রিসমাস ইভের সঙ্গে মিলিত হয়ে পুহের একশো বছর পূর্ণ হওয়া চিহ্নিত করে।
লন্ডন ইভনিং নিউজে প্রকাশের পর পুহ দ্রুতই বিশ্বব্যাপী শিশু ও বড়দের প্রিয় চরিত্রে পরিণত হয়। টিগার, ক্রিস্টোফার রবিন, পুহ স্টিকস গেম এবং কাল্পনিক হানড্রেড একর উডের সঙ্গে তার নাম যুক্ত হয়ে একটি সমৃদ্ধ কাল্পনিক জগত গড়ে ওঠে।
আসলেই হানড্রেড একর উডের মডেল হিসেবে ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সের আশডাউন ফরেস্টকে ধরা হয়েছে, যেখানে এ.এ. মিল্নের গ্রাম্য বাড়ি অবস্থিত। এই বনভূমি উঁচু বালুকাময় রিজে গঠিত এবং হাই ওয়েল্ডের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে স্বীকৃত।
আশডাউন ফরেস্টের স্থানীয় অর্থনীতিতে পুহের জনপ্রিয়তা এখনও বড় ভূমিকা রাখে। বার্ষিকী উদযাপনের জন্য সরকারী তহবিলের মধ্যে ৪৫০,০০০ পাউন্ড স্থানীয় ইভেন্টের আয়োজনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
১৯২৫ সালে মিল্ন লন্ডন থেকে এক মাইল উত্তরে কোচফোর্ড ফার্ম নামে একটি গ্রাম্য বাড়ি কিনে। হাটফিল্ডের কাছাকাছি এই বাড়ি থেকে তিনি ও তার পুত্র ক্রিস্টোফার রবিন পুহের কল্পনা জগৎ গড়ে তোলেন।
বিনি দ্য পুহের প্রথম বই ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়, আর সিক্যুয়েল “দ্য হাউস অ্যাট পুহ কর্নার” ১৯২৮ সালে প্রকাশ পায়। এই দুইটি গ্রন্থের পাশাপাশি দুটো কবিতার বইও প্রকাশিত হয়, যেখানে পুহের চরিত্রগুলোকে রঙিন ছন্দে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পুহ স্টিকস গেমের মূল স্থান হিসেবে পরিচিত পুরনো সেতুটি ১৯৯০-এর শেষের দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিরাপদ না থাকায় ভেঙে ফেলা হয়। পরে একই নকশায় একটি রেপ্লিকা তৈরি করে আশডাউন ফরেস্টে পুনরায় স্থাপন করা হয়।
মূল সেতুটি ২০২১ সালে নিলামের মাধ্যমে ১৩১,০০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়। এই বিক্রয়টি পুহের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের মূল্যকে আবারও প্রকাশ করে।
১৯৬১ সালে ডিজনি পুহের গল্পের অধিকার অর্জন করে, ফলে চরিত্রটি অ্যানিমেশন ও থিম পার্কের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়। ডিজনির হস্তক্ষেপ পুহের আন্তর্জাতিক খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭৮ সাল থেকে হাটফিল্ডে পুহ কর্নার নামে একটি গিফট শপ ও চা ঘর পরিচালিত হচ্ছে। এখানে পুহের স্মারক, খেলনা এবং থিমযুক্ত খাবার পাওয়া যায়, যা ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
মালিকের মতে, বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা এই ছোট গ্রামটি পরিদর্শন করে পুহের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে। দূরদূরান্তের ভ্রমণকারীরা এখানে এসে পুহের গল্পের সঙ্গে নিজস্ব স্মৃতি গড়ে তোলেন।
বার্ষিকী উদযাপনের সময় বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রদর্শনী এবং থিমযুক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে পুহের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়। স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন শিল্প এই সুযোগে সমৃদ্ধি লাভ করে।
বিনি দ্য পুহের একশো বছর পূর্ণ হওয়া শুধু একটি সাহিত্যিক মাইলফলক নয়, বরং আশডাউন ফরেস্টের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। এই উদযাপন ভবিষ্যতে আরও বেশি দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



