বলিউডের দুই বিশাল নাম, কার্তিক আরিয়ান এবং করণ জোহর, প্রথমবারের মতো একত্রে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দুজনই একটি বড় বাজেটের (১৫০ কোটি টাকা) অ্যাকশন-রোমান্স চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছেন, যার পরিচালনা দায়িত্বে আছেন সমীর বিদ্বান্স, যিনি ‘সত্যপ্রেম কী কাথা’ ছবির জন্য পরিচিত।
এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বড় পর্দায় আসার কথা, এবং এটি কার্তিকের ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’ পরের পরবর্তী বড় স্ক্রিন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। চলচ্চিত্রের মূল থিমটি আধুনিক সময়ের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রেমের গল্পের মধ্যে একটি, যেখানে রোমান্সের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার ও অ্যাকশন উপাদানও থাকবে।
প্রযোজনা দায়িত্বে রয়েছে ধর্মা প্রোডাকশন এবং নামাহ পিকচার্সের যৌথ উদ্যোগ। দু’টি স্টুডিওই পূর্বে বিভিন্ন হিট ফিল্মে অংশগ্রহণ করেছে, এবং এই নতুন প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা দর্শকদের কাছে নতুন রসিকতা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ধারণা প্রথমে কার্তিকের সঙ্গে কাজ করা সজিদ নাদিদওয়ালার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল, যখন ‘সত্যপ্রেম কী কাথা’ মুক্তি পেয়েছিল। পরে এই ধারণা করণ জোহরের কাছে পৌঁছায়, এবং তিনি তা পছন্দ করে তৎক্ষণাৎ প্রোডাকশন সমর্থন জানান।
সমীর বিদ্বান্সের সঙ্গে কাজ করার জন্য কার্তিকের আগ্রহের মূল কারণ হল তার পূর্বের সফল সহযোগিতা, বিশেষ করে ‘সত্যপ্রেম কী কাথা’ তে। এই চলচ্চিত্রে দুজনই নতুন চরিত্রে অভিনয় করবেন, যা তাদের ক্যারিয়ারের নতুন দিক উন্মোচন করবে।
বাজেটের দিক থেকে এই প্রকল্পটি ১৫০ কোটি টাকার বড় স্কেল, যা বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যয়বহুল বাংলা-হিন্দি সমন্বিত চলচ্চিত্রের মধ্যে গণ্য। বাজেটের বড় অংশটি ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, লোকেশন শুটিং এবং উচ্চমানের সাউন্ড ডিজাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের গল্পের রূপরেখা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে এটি প্রেমের সঙ্গে সঙ্গে রোমাঞ্চকর অ্যাকশন দৃশ্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যা দর্শকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
প্রযোজক দলটি বলেছে যে, এই প্রকল্পটি আধুনিক দর্শকের চাহিদা মেটাতে এবং বক্স অফিসে বড় সাফল্য অর্জন করতে লক্ষ্য রাখবে। এছাড়া, চলচ্চিত্রের সঙ্গীত ও নাচের অংশও বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়।
প্রকাশের সময়সূচি অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী দুই দিনের মধ্যে করা হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় প্রচুর আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ দুজনের ভক্তরা ইতিমধ্যে এই সংমিশ্রণকে নিয়ে উত্তেজনা প্রকাশ করেছে।
বহু বছর পর প্রথমবারের মতো করণ জোহর এবং কার্তিক আরিয়ান একসাথে কাজ করার এই উদ্যোগটি শিল্পের মধ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয়ের ক্যারিয়ারেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
চলচ্চিত্রের শুটিং স্থান, কাস্টিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। তবে বর্তমানে জানা যাচ্ছে যে, শুটিংয়ের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের লোকেশন ব্যবহার করা হবে, যা ছবির ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধর্মা প্রোডাকশন এবং নামাহ পিকচার্সের সহযোগিতা আবারও প্রমাণ করে যে, বড় বাজেটের উচ্চমানের চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব, যদি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৃজনশীলতা থাকে। দর্শকরা এখন অপেক্ষা করছেন, কখন এবং কীভাবে এই দুজনের নতুন সৃষ্টিকর্ম পর্দায় আসবে।



