বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের অধীনস্থ সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ (GED) গতকাল প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে চালের দামের হ্রাস সত্ত্বেও চালের মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ মাত্রায় রয়ে গেছে। এই তথ্য দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যমূল্য প্রবণতার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চালের দামের সামান্য পতনের পরেও চালের মুদ্রাস্ফীতি নভেম্বর মাসে ১২.২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অক্টোবরের ১৩.৭৭ শতাংশের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। তবে এই হ্রাস সত্ত্বেও চালের মূল্যবৃদ্ধি এখনও উল্লেখযোগ্য স্তরে রয়েছে।
চালের অবদান খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিতে সর্বোচ্চ, যা নভেম্বর মাসে মোট খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির ৪০.২৮ শতাংশ গঠন করেছে। অক্টোবরের তুলনায় এই অনুপাত ৪৭.০১ শতাংশ থেকে কমে এসেছে, তবে এখনও প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
চালের বিভিন্ন গুণের অবদানেও পরিবর্তন দেখা গেছে। মাঝারি চালের অবদান নভেম্বর মাসে ১৭.৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অক্টোবরের ১৯.৫৪ শতাংশের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। সূক্ষ্ম চালের অংশ ৬.৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে, পূর্বে ৭.২০ শতাংশ ছিল। তাছাড়া, মোটা চালের অবদান ১২.৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অক্টোবরের ১৬.৮১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
সামগ্রিক চালের মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের প্রবণতা সত্ত্বেও, চালের দাম এখনও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির ওপর চালের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
চালের পাশাপাশি শুকনো মাছও খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির একটি বড় চালক হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুকনো মাছের অবদান নভেম্বর মাসে ৩৯.৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্বের মাসের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নভেম্বর মাসে ৮.২৯ শতাংশে রয়ে গেছে, যা অক্টোবরের ৮.১৭ শতাংশের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির ধারাবাহিকতা, যা একই সময়ে ৭.৩৬ শতাংশে বেড়েছে, পূর্বের ৭.০৮ শতাংশের তুলনায়।
অন্যদিকে, অখাদ্য মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি স্ফীতির মধ্যে পার্থক্যও সামান্য বাড়েছে। মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে মজুরি স্ফীতি ৮.০৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ, ফলে মূল্য ও মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক দিক থেকে, সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৪,৯৯,০০০ কোটি টাকার। নভেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ৩৬,৩২৬ কোটি টাকা, তবে বাস্তবে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ২৯,৬৫৮ কোটি টাকা, ফলে লক্ষ্য থেকে ৬,৬৬৮ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এর ব্যবহার নভেম্বর মাসে পূর্বের মাসের তুলনায় কিছুটা উন্নতি দেখিয়েছে, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি, যা বাস্তবায়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ব্যাংক ডিপোজিটের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর মাসে মোট জমা ১৯,২৪,৬৩৫.৭০ কোটি টাকার সমান, যা বছর-ও-বর্ষে ৯.৬২ শতাংশের বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই তথ্যগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রা নীতি প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



