ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র‑ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে গঠিত ২০‑ধাপের শান্তি পরিকল্পনার নতুন খসড়া উপস্থাপন করেন। এতে রাশিয়ার শর্ত অনুসারে পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ থেকে ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহার এবং ঐ এলাকায় একটি অসামরিক বা মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার প্রস্তাব রয়েছে।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া এই পরিকল্পনার ওপর তাদের মতামত জানাবে। তিনি এটিকে যুদ্ধ সমাপ্তির মূল রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ করলে সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত আছে।
ডনবাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠনকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা এই ধরনের অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী দুইটি পথের কথা উল্লেখ করেন—যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অথবা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। রাশিয়া পূর্ব দোনেৎস্কের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা থেকে ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহার চায়, আর বাকি অংশ ইতোমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ভূখণ্ড সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো নেতৃত্ব স্তরে সমাধান করা হবে বলে জেলেনস্কি জানান। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউক্রেনকে শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ সৈন্যের বিশাল সামরিক শক্তি নিশ্চিত করা হবে।
হালনাগাদ পরিকল্পনায় ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিশদ তথ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। জেলেনস্কি ব্যাখ্যা করেন, যদি ইউক্রেন ডোনেৎস্কের অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ এলাকায় ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠন করে, তবে তারা ৫, ১০ অথবা ৪০ কিলোমিটার দূরে সেনা সরিয়ে এলাকাটিকে কার্যত অসামরিক করতে পারে।
এ ধরনের পদক্ষেপের পর রাশিয়াকেও একই সীমা পর্যন্ত সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে, যাতে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এই শর্ত পূরণে উভয় দেশের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত মতামত পাওয়ার পর রাশিয়া তার প্রতিক্রিয়া জানাবে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে শীর্ষ স্তরে আলোচনার দরজা খুলে যাবে, যেখানে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।
এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসন ও ভূখণ্ড অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
যদি আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক হয়, তবে পূর্ব ইউক্রেনে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন সম্ভব হবে, আর যুদ্ধবিরতির শর্তে রাশিয়া আরেকটি বৃহৎ ভূখণ্ড অর্জন থেকে বিরত থাকবে।
অন্যদিকে, যদি রাশিয়া পরিকল্পনার শর্তে আপত্তি জানায়, তবে বর্তমান যুদ্ধের তীব্রতা বজায় থাকবে এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। উভয় ক্ষেত্রেই জেলেনস্কি এবং তার দলকে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংক্ষেপে, জেলেনস্কি কর্তৃক উপস্থাপিত নতুন শান্তি খসড়া রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের নিরাপত্তা চাহিদা এবং পশ্চিমা গ্যারান্টির সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমঝোতার পথ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে নাকি যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।



